দুই বছরের স’ম্পর্কে তাদের মধ্যে অনেক কিছুই হয়েছে: মুনিয়ার বোন

কুমিল্লা থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানী ঢাকায় গিয়ে অবশেষে লা’শ হয়ে ফিরলেন কলেজছা’ত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে মুনিয়ার ম’রদে'হ ময়নাত’দন্ত শেষে 'বিকালে ওই কলেজ ছা’ত্রীর ম’রদে'হ কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় তার বড় বোনের বাসায় নিয়ে আসা হয়।

এসময় উৎসুক মানুষ বাসাটির আশপাশে ভিড় জমায়। এতে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃ'ষ্টি হয়। এদিকে মঙ্গলবার বাদ আসর তার ম’রদে'হ নগরীর টমছমব্রিজ কবরস্থানে দা'ফন করা হয়। মুনিয়া নগরীর মনোহরপুর এলাকার উজির দীঘির পাড়ের বাসিন্দা বীর মুক্তিযো'দ্ধা মৃ'’ত সফিকুর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় এলাকার বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এদিকে পু’লিশ ক'র্তৃক ওই কলেজছা’ত্রীর ম’রদে'হ উ’'দ্ধারের পর তার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদি হয়ে রাজধানীর গু'লশান থা’নায় মা’ম'লা দায়ের করেছেন। আর এ ঘটনাটিকে পরিক’ল্পিত হ’'ত্যাকা’ণ্ড বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জ’ড়িতদের দৃ'ষ্টান্তমূলক শা’স্তির দাবি জানিয়েছে কলেজছা’ত্রীর পরিবার।

জানা যায়, নগরীর মনোহরপুরের উজির দীঘির দক্ষিণপাড় এলাকার বাসিন্দা মৃ'’ত বীর মুক্তিযো'দ্ধা ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সফিকুর রহমানের মেয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়া রাজধানীর মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। এবার এ প্রতিষ্ঠান থেকে তার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগে সে কুমিল্লা নগরীর বাদুরতলা এলাকার ওয়াইডব্লিউসিএ নামক একটি স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। পরে সে নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকার মডার্ন হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে এবং সর্বশেষ রাজধানীর মিরপুর মনিপুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে। পরিবারে এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে সবার কনিষ্ঠ।

মঙ্গলবার 'বিকালে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় ফিরে নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় অরণী নামক ভবনের ফ্ল্যাটে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে কা’ন্নায় ভেঙ্গে পড়েন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান।

তিনি বলেন, দুই বছর আগে থেকে মা’ম'লার আ’সামি বসুন্ধ’রা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। ওই স’ম্পর্কের পর তাদের মধ্যে অনেক কিছুই হয়েছে। তাকে রিকভা’র করে নিয়ে আসছিলাম।

সে বেশ কিছুদিন আমা’র কাছে ছিল। এরপর গত দুই’মাস আগে ঐ শিল্পপতী মুনিয়াকে বিভিন্ন প্র'লো’ভন দেখায়। তাকে বিয়ে করবে, তাকে অনেক ভালোবাসে। সে বলছে- তাকে এখানে সেটেল করতে পারবে না, দেশের বাইরে সেটেল করবে। এমন প্র'লো’ভনের পর আমা’র বোন আমা’র কথা শুনে নাই। আমা’র বোনের অগাধ বিশ্বা’স থেকে সে তার কাছে গিয়েছে। তাকে বাসা ভাড়া করে রেখেছে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে মুনিয়ার মন খা’রাপ। এরপর বিয়ের কথা ঐ ছে’লেকে বলেছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে।

কালকে মুনিয়া ফোন করে বলে- আমাকে মে’রে ফেলবে। আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। আপু তুমি তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো, আমা’র অনেক বড় বিপদ। আমা’র যে কোন সময় একটা দু'র্ঘ’টনা ঘটতে পারে। বি'ষয়টি জেনে ঢাকায় রওয়ানা দেই এবং যেতে যেতে তাকে অনেক ফোন দেওয়া হয়, কিন্তু সে আর ফোন ধরেনি। পরে বাসায় গিয়ে দরজা নক করলেও সে খুলেনি। এসময় বাসার মালিককে ডেকে ঘরের তালা ভেঙ্গে তাকে ঝু'লন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।

ওই বাসায় ঐ শিল্পপতীর আসা-যাওয়া করেছে সিসিটিভির এমন ফুটেজ পু’লিশ পেয়েছে। ৪টি ডায়েরিতে মুনিয়ার লিখিত অনেক এভিডেন্স (তথ্য প্রমাণ) পাওয়া গেছে। এসব ডায়েরিতে অনেক এভিডেন্স আছে। দুটি মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য এভিডেন্স পু’লিশ নিয়ে গেছে। বাসায় তার সাথে অনেক ছবি ছিল, সিমটম ছিল।

তিনি আরো বলেন, আমা’র কি গেছে, তা শুধু আমি বলতে পারব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি। আমা’র বাবা একজন মুক্তিযো'দ্ধা। সরকার থেকে আম’রা কিছুই নেই নাই। ওনার কাছে আমা’র এতিম বোনের বিচারটা ভিক্ষা চাই। সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বি'ষয়ে মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ সাংবাদিকদের বলেন, আমা’র বোন মুনিয়া সুই’সাইড করার মতো মেয়ে না। আম’রা মনে করছি এটি পরিক’ল্পিত হ’'ত্যাকা’ণ্ড। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানাতে চাই, আম’রা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমা’র বাবা একজন মুক্তিযো'দ্ধা। তিনি মৃ'’ত্যুর আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমা'দের আকুল আবেদন, পরিক’ল্পিত এই হ’'ত্যাকা’ণ্ডের সাথে জ’ড়িতদের দৃ'ষ্টান্তমূলক শা’স্তি চাই।

Facebook Comments
Back to top button