তরমুজের ওজন বাড়াতে সিরিঞ্জ দিয়ে পুশ করা হচ্ছে দুষিত পানি

গ্রীষ্মের রসালো ফল তরমুজ। সুস্বাদু এ ফলটি গরমে মানুষের যেমন তৃ’ষ্ণা মেটায় তেমনি আনে স্বস্তি। শহরবাসী অথবা গ্রামের মানুষ সবাই কমবেশি তরমুজ খেতে পছন্দ করেন। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি। তরমুজে শতকরা ৬ ভাগ চিনি এবং ৯২ ভাগ পানিসহ অন্যান্য ভিটামিন জাতীয় উপকরণ রয়েছে। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, বি৬, সি, পটাশিয়াম, লাইকো'প েন ও সিট্রুলিনের মতো উপাদান।

যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য তরমুজ আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলটির পু'ষ্টিগুণ যেমন তেমনি দেশি ফলের ভেতরে দামও তুলনামূলক কম থাকায় গরমে স্ব’স্তি পেতে তরমুজের জুড়ি নেই। কিন্তু তরমুজের মতো সহ’জলভ্য, সুস্বাদু ও জনপ্রিয় এ ফলটিতেও এখন দেদারসে মেশানো হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষ’তিকারক উপাদান। এমনকি ওজন বাড়াতে পুশ করা হচ্ছে দুষিত পানি। ক্ষ’তিকা’রক কে’মিক্যা’ল ও দু’ষিত পানি মেশানো এসব তরমুজ খেয়ে অ’সুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।

সারা দেশে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অ’সুস্থ হওয়ার বেশ কিছু ঘটনা সম্প্রতি খবর এসেছে। বাজার ঘুরে খুচরা ও পাইকারী ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ভ’য়াব’হ তথ্য। তরমুজের নামে আম’রা খাচ্ছি ফ’রমা’লিন, স্যা’কারি’ন, দু’ষি’ত পানিসহ নানান ধরনের ক্ষ’তিকর কে’মিক্যাল। তরমুজে এসব কে’মিক্যা’ল মেশাতে ব্যবসায়ীরা আশ্রয় নিচ্ছে নানান ধরণের কৌশল। তরমুজকে পাকা এবং লাল দেখানোর জন্য মেশানো হচ্ছে বি’প’জ্জ’নক লাল র’ঙ ও মি'ষ্টি স্যা’কারি’ন। ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে তরমুজের বোঁ’টা দিয়ে এসব দ্রব্য পু’শ করে তরমুজ পাকা ও লাল ট’কট’কে বলে 'বিক্রি করা হচ্ছে।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) পু’লিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের কর্মক’র্তা সানি সানোয়ার ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন তরমুজ খেয়ে তার পরিবারের ৪ জন অ’সুস্থ হয়েছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘তরমুজ খেয়ে আমা’র পরিবারের ৪ জন অ’সুস্থ হয়েছিল। বি'ষয়টি বেশ কয়েকজনের সাথে শেয়ার করলাম। দেখলাম সবাই একই অ’ভি’জ্ঞতার কথা বলল।’তিনি আরও লিখেন, ‘আমা’র পরিবারে আপাতত তরমুজ খাওয়া বন্ধ। দোষীদের ধরতে জনস্বার্থে কাজ চলছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এমন আরও অনেকেই তরমুজ খেয়ে অ’সুস্থ হয়ে পড়ছেন।

সম্প্রতি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজে’লায় তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের নয় জন অ’সুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে আটজনকে জে’লা সদর হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়।হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তরমুজ কিনে বাড়ি যান আদু মিয়া নামে একব্যক্তি। পরিবারের সদস্যরা সেই তরমুজ খেয়ে একে একে অ’সুস্থ হয়ে পড়েন। মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতা’লের আবাসিক চিকিৎসা কর্মক’র্তা (আরএমও) আবদুল মালেক খান গণমাধ্যমকে জানান, তরমুজ খেয়ে অ’সুস্থ ব্যক্তিরা আশ’ঙ্কামু’ক্ত নন। ওই তরমুজে বি’ষা’ক্ত কোনো রাসা’য়নিক পদার্থ মে’শানো হয়ে থাকতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামীম আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, অনেকেই তরমুজ কেনার সময় খানিকটা অংশ কে’টে প’রখ করে নেন, তরমুজটি লাল কি না, তাও দেখে নেন। তবে একদম ট’কট’কে লাল তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষ’তিকর রাসা’য়নিক পদার্থ ব্যবহার করার মাধ্যমে তরমুজের রং লাল করা হয়। তাই কেনার সময় স্বাভা'বিক রঙের তরমুজ কিনুন।

এছাড়াও বাজার সংশ্লি'ষ্টরা জানান, আগে তরমুজ 'বিক্রি হত ‘পিস’ হিসেবে কিন্তু এখন তা 'বিক্রি হয় কেজিতে। তাই কিছু অ’সাধু ব্যাবসায়ী তরমুজের বোঁ’টা দিয়ে সিরিঞ্জের সাহায্যে পানি ঢুকিয়ে ওজন বাড়ায়। ওজন বাড়াতে তারা যে পানি তরমুজে পু’শ করছে তাও আবার দু’ষিত ও ‘নোং’রা পানি। এসব খেয়ে ডা’য়রিয়া, ব’মি, পে’টব্যাথাসহ নানান ধরণের পানিবাহিত রো’গে আ’ক্রা'’ন্ত হচ্ছে মানুষ। অ’সাধু ব্যবসায়ীদের এসব কর্মকা’ণ্ডের লাগাম টানতে বাজার মনিটরিং এবং এতে জ’ড়িতদের শা’স্তির আওতায় আনার দাবি সাধারণ মানুষের। এছাড়া মনিটরিং শেল গঠনের পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী ক'র্তৃপক্ষের সচে’তন হওয়া এবং অ’সাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরাম’র্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Facebook Comments
Back to top button