জরাজীর্ণ ঘরে অর্ধাহারে দিন কাটছে বৃদ্ধ আমের-আনোয়ারার

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজে’লার বৃ’'দ্ধ আমের উদ্দিন (৭০)। এই বয়সেও রিকশা চালিয়ে জী’'বিকা নির্বাহ করতে হয় তাকে। রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে বৃ’'দ্ধ-বৃ’'দ্ধার সংসার। কিন্তু চলমান লকডাউনে রোজগার না থাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে এই বৃ’'দ্ধ দম্পতির। এ অবস্থায় কেউ খবরও নেয়নি তাদের।

জানা গেছে, উপজে’লার সিংগীমা’রী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের তেলিপাড়া গ্রামে স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে (৬৫) নিয়ে জরাজীর্ণ এক ঝুপড়িতে থাকেন আমের উদ্দিন। স্ত্রী আনোয়ারা বেগম অন্য বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। এ অবস্থায় তাদের জন্য আজও মেলেনি কোনো সরকারি ভাতার কার্ড। পাননি কোনো সরকারি অনুদান। বাধ্য হয়ে রিকশা চালাতে হয় বৃ’'দ্ধ আমের উদ্দিনকে। কিন্তু লকডাউনে আয় কমে যাওয়ায় ক’'ষ্টে দিন পার করছেন এই অ’সহায় পরিবারটি।

একটি মেয়ে রয়েছে এই বৃ’'দ্ধ দম্পতির। মেয়ের বিয়ে দিলেও তাদের সঙ্গেই থাকেন। জায়গা জমি বলতে বৃ’'দ্ধ আমের উদ্দিনের এক শতক ও একমাত্র মেয়ে জামাইয়ের কেনা দুই শতকসহ মোট তিন শতক জমিতে দুই পরিবারের বসতঘর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাত্র তিন শতক জমির উপর দুটি ঘর। এক ঘরে মেয়ে-জামাই থাকেন। আরেক ঘরে থাকেন বৃ’'দ্ধা আনোয়ারা বেগম। আর স্বামী আমের উদ্দিন থাকেন জরাজীর্ণ এক ঝুপড়িতে। এই লকডাউনে রিকশা নিয়ে বের হলেও তেমন ভাড়া পান না। এই বয়সে আর রিকশা চালাতে পারেন না আমের উদ্দিন। করো’নার কারণে আনোয়ারা বেগমকেও আর কেউ কাজে নেন না।

বৃ’'দ্ধা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এই ভাইরাসোত (ভাইরাসে) কোনো কাম নাই। বুড়াটা বাড়িত বসি আছে। দিন যায় হামা’র না খেয়া। সরকার থাকি কোনো কিছু পাই না। এই ভাঙা ঘরত পরি থাকি। পানি (বৃ’'ষ্টি) আর হুরকাতে ভয়ে ভয়ে রাত কা’টাই।’

বৃ’'দ্ধার মেয়ে নজিমা বেগম বলেন, ‘আমা’র স্বামী রিকশাচালক। আমি চাল কলে কাজ করি। কোনোরকম টেনেটুনে চলে আমা’দের সংসার। মায়ের ঘর ভালো করার মতো আমা’র সামর'’্থ নাই।এই লকডাউনে কাজ না থাকায় পুরো পরিবার অনেক ক’'ষ্টে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমা’র মা আর কতো গরিব হলে সরকারি ঘর পাবে? মাকে যেন সরকার সাহায্য করে, এই দাবি জানাই।’

এ বি’ষয়ে ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আক্কেল আলী বলেন, ‘রিকশাচালক বৃ’'দ্ধ আমের উদ্দিন আমা’র প্রতিবেশি। রিকশা চালিয়ে কোনোমতে চলে তাদের পরিবার। অভাবের কারণে তাদের থাকার ঘরটি নরবরে অবস্থা। পরিবারটিকে একটি সরকারি পাকা ঘর দিলে উপকৃত হবে।’

সিংগীমা’রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু বলেন, ‘করো’নাকালীন কোনো সাহায্য আসলে তারা পাবেন। আপাততো গু'’চ্ছগ্রাম ছাড়া ব্যক্তি মালিকানা জমিতে সরকার আর কোনো ঘর দেয় না।’

Facebook Comments
Back to top button