লকডাউনে বাড়িভাড়া নিয়ে বিপাকে ভাড়াটিয়ারা

দেশে করো’নাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ভ'য়াবহ আকার ধারণ করায় প্রথম দফায় গত ৫ এপ্রিল থেকে এক স'প্ত াহের লকডাউন শুরু হয়, যে বিধি-নিষে'ধের ধা'রাবাহিকতা চলে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হয়। এটি শেষ হবে ২১ এপ্রিল। তার আগেই চলমান ‘কঠোর লকডাউনের’ মেয়াদ আরো এক স'প্ত াহ বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

লকডাউনের কারণে চাপে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ হওয়ায় ঘরে বসে কাটছে সময়। উপার্জন না থাকায় নিম্নবিত্তরা চিন্তিত, মাস শেষে বাড়িভাড়া আসবে কোথা থেকে? ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বল্প আয়ের যারা ঘরভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। এই অবস্থায় বাসা-ভাড়া দেওয়া তাদের পক্ষে শুধু ক'ষ্টসাধ্যই নয় অ'সম্ভবও বটে।

ভাড়াটিয়ারা বলছেন, লকডাউনের ফলে দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর এই শ্রেণির কথা কেউ ভাবছে না। এ অবস্থায় ভাড়াটিয়ারা চাচ্ছেন, সরকার লকডাউন চলাকালীন সময়ে বাড়ি ভাড়ার বি'ষয়টি বিবেচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করুক।

করো’নায় কেউ কাজ হারিয়ে আবার কেউ ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে ছাড়ছেন প্রাণের শহর ঢাকা। কবে পরিস্থিতি স্বাভা'বিক হবে সে নিশ্চয়তা না থাকায় অনেকেই ফিরছেন গ্রামে। স্বপ্ন সাজাতে অনেকেই গ্রামের মায়া কাটিয়ে এসেছিলেন তিলোত্তমা নগর ঢাকায়। তবে বিশ্বব্যাপী করো’নার তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় সব। অনেকের চাকরি হারিয়ে পরিবারের জন্য খাবার যোগাড় করাই এখন ক'ষ্টের।

এদিকে লকডাউনে ক্ষ'তিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের এক মাসের ভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞ'প্ত ি পাঠিয়েছে ভাড়াটিয়া পরিষদ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির দাবি, লকডাউনের কারণে ভাড়াটিয়ারা ক্ষ'তিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই কাজ হারিয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় দোকান ভাড়া বা বাড়ি ভাড়া দেয়া খুবই ক'ষ্টকর হবে। তাই অন্তত একমাসের ভাড়া মওকুফ চান তারা।

গত ১১ এপ্রিল সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞ'প্ত িতে সংগঠনের সভাপতি মোঃ বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, দেশে করো’না ভাইরাসের সংক্রমণ আশ'ঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে সর্বাত্মক লকডাউনের চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। কিন্তু লকডাউনের ফলে দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে সে ভাবনা কেউ ভাবছে না। আমরা এই মান'বিক সংকট থেকে উত্তরণে ক্ষ'তিগ্রস্তদের এক মাসের দোকান ভাড়া ও বাড়ি ভাড়া মওকুফে সরকার ও বাড়িওয়ালাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে পোশাক-শিল্প সহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় লকডাউনের ফলে যদি ছুটি ঘোষণা করা হয় তাহলে কোন শ্রমিকের বেতন যেন ক'র্তন না হয় যে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের জোর দাবি জানাচ্ছি।

নিউমার্কে'টের এক দোকানে চাকরি করেন আব্দুর রহমান। লকডাউন শুরুর পর দোকান বন্ধ থাকায় তাকে বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়েছে। বেতন ছাড়া ছুটিতে তিনি বেশ বেকায়দায় পড়েছেন। তিনি বলেন, একেই চলছে রমজান মাস এই মাসে এমনিতেই খরচ বেশি চলতি মাসের বাসা ভাড়া দিতে পারিনি। জানিনা বাসা মালিক কবে বের করে দেন। ঈদের আগে যদি মার্কেট খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে আমর পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকা'টাই অ'সম্ভব হয়ে যাবে।

টিউশনির ওপর নির্ভর করেই পুরান ঢাকার একটি মেসে থাকেন বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী রুনা আক্তার। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকি। এখন আমার হাতে কোনো টিউশনি নেই। তিনি বলেন, লকডাউনে এখন না পারছি বাড়িতে যেতে, না পারতেছি ঢাকায় থাকতে। লকডাউন এভাবে চলতে থাকলে ঢাকাতে কিভাবে থাকবো। না পারবো বাসা ভাড়া দিতে, না পারবো খাবার খরচ চালতে।

সরকার বাড়িভাড়া মওকুফ করবে কিনা তা জানতে প্রতিদিনই পুলিশের ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করছেন হাজার হাজার মানুষ। তারা জানতে চাচ্ছেন, সরকার লকডাউনে বাড়িভাড়া মওকুফ করবে কিনা বা বাড়িভাড়া নিয়ে সরকার কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কিনা। ৯৯৯ ক'র্তৃপক্ষ জানিয়েছে গত ৪ দিনে তাদের কাছে গড়ে ৩০ হাজার করে ফোন আসছে। এরমধ্যে অধিকাংশই বাড়িভাড়া বি'ষয়ে জানতে চেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তারা জানাচ্ছেন, সরকার এ বি'ষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

Facebook Comments
Back to top button