ফে’লে দেওয়া মাছের আঁশ বিক্রি করে কোটিপতি জুলফিকার!

জীবন কখন, কী’ভাবে, কাকে এনে কোথায় যে ফে’লে—কিছুই ঠিক নেই তার। খুলনার মো. জুলফিকার আলম যেমন জীবনেও ভাবেননি মাছের আঁশের ব্যবসা করবেন। আর এখন পুরো ধ্যানজ্ঞানই তাঁর এই ফেলনা জিনিসটি।

র’'প্ত ানি তো করছেনই, রীতিমতো দেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রক্রিয়াকরণ কারখানা করার চিন্তা করছেন। ১৬ বছর আগের একটি ঘ’টনার কথা মনে করেন জুলফিকার। বলেন, ‘বিদেশি এক ক্রেতার স’’ঙ্গে পরিচয় হয় খুলনায়।

তিনিই বু’'দ্ধি দিলেন প্রথম। মাছের আঁশ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে র’'প্ত ানি করা সম্ভব। কী’ভাবে সম্ভব, তা শিখিয়েও দিলেন তিনি। সেই যে হাঁটা শুরু করলাম, আর পেছনে তাকাইনি।’

শুরুর দিকে মানুষকে উদ্বু’'দ্ধ করতেন তিনি মাছের আঁশগু'’লো যাতে ফে’লে না দেওয়া হয়। বাজারে বাজারে নিজে ঘুরে বেড়াতেন। বলতেন যত্ন করে এগু'’লো জমিয়ে রাখতে। বিনিময়ে থোক হিসেবে মাসিক একটা টাকা দিতেন। এখন অবশ্য কেজি দরে কিনতে হয়। প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা।

জুলফিকার আলম জানালেন, দেশজুড়ে এখন একটি বলয় গড়ে উঠেছে তাঁর। বিশেষ করে বন্দর এবং জে’লা পর্যায়ে। অন্তত ২০০ লোক সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত। বাজারে যাঁরা মাছ কা’টেন এবং আঁশ ছাড়ান, প্রথম কাজটা তাঁরাই করেন।

কী’ভাবে—জানতে চাইলে বলেন, ‘আমিই শিখিয়ে দিয়েছি। পানি ও কেমিক্যাল দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে। অন্তত দুই দিন শুকালে তা মচ’মচে হয়। এরপর সংরক্ষণ করে রাখেন। আমা’দের প্রতিনিধিরা সেগু'’লো নিয়ে আসেন।

এরপর আমা’দের গু'’দামে রাখা হয়। আঁশের স’’ঙ্গে ফাঁ'’কে কিছু অন্য জিনিস ঢুকে যায়। যেমন পাখনা, লেজের অংশ, কানের অংশ, গাছের পাতা ই’'ত্যাদি। এগু'’লো বাছাই করে ফে’লে দিতে হয়। পরে প্যাকেট করা হয় একেকটি ২৫ কেজি করে।

মাছের আঁশের বড় র’'প্ত ানি গন্তব্য হচ্ছে জা’পান। কিন্তু জা’পানে সরাসরি পাঠানো যায় না। জা’পানি একটি বড় কোম্পানি চীন ও ইন্দোনেশিয়ায় দুটি আলাদা কোম্পানি খুলেছে। ওখানে আগে পাঠানো হয়। মূ’ল কোম্পানি পরে নিয়ে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়াতেও এখন কারখানা গড়ে উঠেছে। র’'প্ত ানির জন্য তৈরি করার পর মৎস্য ও প্রা’ণিসম্পদ ম’ন্ত্রণালয় পরিদ’র্শন করে। তাদের সনদ পাওয়ার পরই র’'প্ত ানি করার অ’নুমতি মেলে।

বছরে ৮০০ থেকে ১ হাজার টন মাছের আঁশ র’'প্ত ানি করা যায় বলে জানান জুলফিকার আলম। তাঁরটিসহ বর্তমানে বাংলাদেশে মোট তিনটি কারখানা রয়েছে। মোট র’'প্ত ানি আনুমানিক দেড় লাখ ডলারের পণ্য। তবে বেশি পরিমাণ র’'প্ত ানি তিনিই করেন।

তিনি র’'প্ত ানি করেন বছরে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের পণ্য। বাকিটা অন্য দুই কারখানা করে। ও’ষুধ, প্রসাধ’নসামগ্রী, ফুড সা’প্লিমেন্ট ই’'ত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় মাছের আঁশ। কোলাজেন নামক একটি পণ্য ‘'বিক্রি হয় ইউরোপ ও যু’ক্তরা’'ষ্ট্রের বাজারে।

দোকানে দোকানে পাওয়া যায়। তা–ও তৈরি হয় মাছের আঁশ দিয়ে—এসব কথাও জানান জুলফিকার আলম। জুলফিকারের প্রতিষ্ঠানের নাম মেক্সিমকো। মা এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির সংক্ষি’’'প্ত রূপ মেক্সিমকো।

এর স’’ঙ্গে যৌ'’থভাবে কিছু করতে চায় জা’পানের মূ’ল কোম্পানি। কয়েকবার ঘুরেও গেছেন ওই কোম্পানির প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশে একটি কারখানা করার চুক্তি করবে বলে গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের আবার আসার কথা ছিল।

এলে আর্থিক চুক্তি ‘'হতো মেক্সিমকোর স’’ঙ্গে। এখন জানিয়েছে, ক’রোনা পরিস্থিতি স্বাভা’'বিক হলে আগামী ডিসেম্বরের দিকে আসবেন। গোটা বিশ্বের এই পণ্যে জা’পানি কোম্পানিটিই নি’য়ন্ত্রণ করে।

জুলফিকার আলম বলেন, ‘একবারেই ফেলনা একটা জিনিস থেকে আম’রা র’'প্ত ানি আয় করছি। প্রায় শতভাগ মূ’ল্য সংযোজন এই পণ্যে। বাণিজ্য ম’ন্ত্রণালয়ে আম’রা নগদ প্রণোদনার আবেদন করেছি। বাংলাদেশ ট্যারিফ অ্যান্ড ট্রে’ড কমিশন এরই মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।

বলেছে, এই পণ্য প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য। যতটুকু জেনেছি বাণিজ্য ম’ন্ত্রণালয় মাছের আঁশকে ১৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করে অর্থ ম’ন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এই প্রণোদনা পেলে র’'প্ত ানি বাড়বে কয়েক গু'’ণ।’

Facebook Comments
Back to top button