মিয়ানমারে ২৪ মন্ত্রী বরখা’স্ত

জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অ'ভিযোগ তুলে মিয়ানমা'রের ক্ষ'মতা দখল করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জারি করা হয়েছে এক বছরের জরুরি অবস্থা। আট'ক করা হয়েছে দেশটির নেত্রী অং সাং সু চি ও প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ট মিন্টসহ ক্ষ'মতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের।

মিয়ানমা'রে সেনাবাহিনী ক্ষ'মতা দখলের প্রথমে দিনেই অং সান সু চির সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের অধিকাংশই জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মক'র্তা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং বিবিসি বার্মিজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সু চি সরকারের অন্তত ২৪ জন মন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নতুন ১১ মন্ত্রীকে। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনই সেনাসমর'্থিত দল ইউএসডিপির সদস্য।

জানা গেছে, ইউএসপিডির অন্যতম নেতা উনা মং লউন হয়েছেন মিয়ানমা'র জান্তা সরকারের নতুন পররা'ষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি গত নভেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে জিততে পারেননি।

গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) পেয়ছিল ৮৩ শতাংশ আসন। ২০১১ সালে সামর'িক শাসন শেষ হওয়ার পর দেশটিতে এটি দ্বিতীয় নির্বাচন ছিল। এতে এনএলডি ৪৭৬টির মধ্যে ৩৯৬টি আসনে জয় পায়। অন্যদিকে, সেনাসমর'্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি পায় মাত্র ৩৩টি আসন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সু চির দল আরেক দফায় পাঁচ বছরের জন্য দেশ শাসনের সুযোগ পায়।

তবে ভোটের ফলাফল মেনে নেয়নি সামর'িক বাহিনী। তারা সুপ্রিম কোর্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরু'দ্ধে অ'ভিযোগ দায়ের করে। এরপর সোমবার সকালে সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আট'ক করে অভ্যুত্থান ঘোষণা করে মিয়ানমা'র সেনাবাহিনী।

সকাল থেকে জরুরি অবস্থা জারির পর রাজধানী নেপিদোতে মোবাইল ফোন ও রা'ষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রে'ডিওর প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে সামর'িক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন মায়াবতির সম্প্রচার চালু রয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের নিয়োগের খবরও তারাই প্রচার করেছে।

টেলিভিশনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ৮ নভেম্বরের বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচনে যে ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হয়েছে তাতে গড়মিল পাওয়া গেছে। এ বি'ষয়টির সমাধান করতে ব্য'র্থ হয়েছে ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন।

এতে আরও বলা হয়, ভোটার তালিকা নিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে, যার ফলে গণতন্ত্র নিশ্চিত সম্ভব হচ্ছে না। বি'ষয়টি নিষ্পত্তি করতে অ'স্বীকৃতি জানানো এবং উচ্চ ও নিম্নকক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্য'র্থ হয়েছে পার্লামেন্ট।

মিয়ানমা'র সেনাবাহিনী বলছে, এই সমস্যার সমাধান না হলে এটি গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাধা সৃ'ষ্টি করবে। আইন অনুযায়ী, এই সমস্যার অবশ্যই সমাধান করতে হবে। একারণে ২০০৮ সালের সংবিধানের ৪১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আগামী এক বছর এই জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।

Facebook Comments
Back to top button