টিকা দিতে প্র’স্তুত সা’ড়ে ছয়শ কেন্দ্র

সারা দেশে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। সরকারি হাসপাতালে প্রস্তুত করা হয়েছে ৬শ ৬২ টিকাকেন্দ্র। টিকা প্রয়োগে থাকছে প্রায় ৭ হাজার প্র'শিক্ষিত টিম। সুরক্ষা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে ১১ হাজার। শনিবার পর্যন্ত এ আবদেন পড়ে।

বিশ্বের ৫৪তম দেশ হিসেবে টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে বাংলাদেশ। শেষ হয়েছে পরীক্ষামূলক টিকা কর্মসূচিও। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত টিকা পেয়েছেন ৫৬৭ জন। এরইমধ্যে ৩৬ জে'লায় পৌঁছে গেছে করো’নার ভ্যাকসিন।

শুধু সরকারি হাসপাতালেই বসছে টিকাকেন্দ্র। ঢাকায় কেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে ৪৯টি। এই কেন্দ্রগু'লো রয়েছে স্বায়ত্বশাসিত হাসপাতালে একটি, সিএমএইচ এ তিনটি, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি, সরকারি হাসপাতালে ২০টি, বিশেষায়িত হাসপাতালে ১২টি, বিজিবি হাসপাতালে একটি ও আনসার হাসপাতালে একটি। ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসে বসছে একটি কেন্দ্র। এছাড়াও টিকা দেয়া হবে দুই সিটি করপোরেশনের হাসপাতালেও।

আর ঢাকার বাইরে টিকাকেন্দ্র ৬১৩টি। এরমধ্যে আছে- সরকারি হাসপাতালে একটি, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮টি, সিএমএইচ ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে ২২টি, বিজিবি হাসপাতালে চারটি, জে'লা পু'লিশ হাসপাতালে ৬৩টি, জে'লা সদর হাসপাতালে ৬৩টি ও উপজে'লা সদর হাসপাতালে বসবে ৪২৩ কেন্দ্র।

স্বাস্থ্য অধিদ'প্ত রের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্ম'দ খুরশীদ আলম জানান, আবেদন শুরু হয়েছে। তবে নানা জটিলতায় নিবন্ধন করতে পারছেন না অনেকেই। এই জটিলতা খুব শিগগিরই দূর হয়ে যাবে। এখনো চালু করা যায়নি সুরক্ষার অ্যাপ ভার্সন। এ পর্যন্ত সুরক্ষার ওয়েবসাইটে আবেদন জমা পড়েছে ১১ হাজার।

স্বাস্থ্য অধিদ'প্ত রের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, টিকা প্রয়োগে কাজ করবে ৬ হাজার ৯৯০ টি টিম। তবে ব্যবহার হবে না নিয়মিত টিকা কর্মসূচির কেন্দ্র ও জনবল। এই কর্মসূচির জন্য আলাদা প্র'শিক্ষণপ্রা'প্ত জনবল তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে, টিকার পেতে আবেদন করার জন্য ওয়েবসাইটের পাশাপাশি খুব দ্রুত অ্যাপ ভার্সনটি চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লি'ষ্টরা।

এর আগে, গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের সে'বিকা রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় বাংলাদেশের করো’নাভাইরাস টিকাদান কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২৫ জানুয়ারি করো’না ভ্যাকসিনের প্রথম চালান ৫০ লাখ ডোজ পাঠায় ভারত। আর ২০ জানুয়ারি ভারত সরকারের উপহার হিসেবে দেয় ২০ লাখ ডোজ টিকা। সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে তিন কোটি করো’না ভ্যাকসিন ডোজ আনবে বেক্সিমকো ফার্মা।

সরকার, সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এই টিকা কেনা হয়েছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এই টিকা কোভিশিল্ড নামে উৎপাদন করছে সেরাম। দেশে এই টিকা সরবরাহ করছে বেক্সিমকো।

Facebook Comments
Back to top button