৫৯ বছরে প্রথম লোকসানের মুখ দেখলো বাটা

১৯৬২ সালে যাত্রা শুরু করা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ৪১ শতাংশ কমে গেছে ঈদের মতো প্রধান 'বিক্রয় মৌসুমেই বিভিন্ন স্থানের শোরুম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে দেশের অন্যতম বহুল পরিচিত ফুটওয়্যার ব্র্যান্ড বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ)। করো’নাভাইরাস মহামারির কারণে প্রথমবারের মতো লোকসানের শি'কার হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তৎকালীন পূর্ব পাকি'স্তান থাকাকালীন ১৯৬২ সালে চালু হওয়া বহুজাতিক সংস্থাটির বাৎসরিক 'বিক্রয় ৪১ শতাংশ কমে মাত্র ৩৫০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালে ৮৫৭ কোটি টাকার চেয়ে প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা কম।

তবে, ক্ষ'তিগ্রস্থ হওয়া সত্ত্বেও বাটা তার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

নেদারল্যান্ডসের বাফিনের সহায়ক এই প্রতিষ্ঠানটির বিগত বছরের লাভের পরিমাণ মাত্র ৪৯ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।

এক বিবৃতিতে বাটা জানিয়েছে, বাটা বাংলাদেশ ২০২০ সালে সামগ্রিক ব্যবসায় সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যা প্রতিষ্ঠানটির উপার্জনকে ব্যাপকভাবে হ্রাস করেছে।

কোভিড-১৯ মহামারি রোধে দেশব্যাপী দেওয়া লকডাউনের কারণে ২০২০ সালের প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শারদীয় দূর্গাপূজা এবং পহেলা বৈশাখের সময় লোকসানের কারণেই উপার্জন মা'রাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

শুধুমাত্র উৎসবের 'বিক্রিতেই বাটা বার্ষিক আয়ের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ সংগ্রহ করে থাকে।

কোভিড-১৯ এর কারণে ডিলার এবং পাইকারদের মতো ব্যবসায়ীদের ৭৭ শতাংশই ক্ষ'তিগ্রস্থ হয়েছেন। বেশিরভাগই তাদের ব্যবসাও খুইয়ে ফেলেছেন।

বাটা বাংলাদেশের বিপণন বিভাগের প্রধান ইফতেখার মল্লিক বলেন, “করো’নাভাইরাসের কারণে আমা'দের সমস্ত রফতানি মার্কেট বন্ধ ছিল। তাছাড়া ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে ২০২০ সালে আমর'া তেমনভাবে কিছু রফতানি করতে পারিনি।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাটা বর্তমানে সব গ্রাহক পয়েন্টে উপস্থিত থাকার জন্য সর্বজনীন প'দ্ধতির দিকেই আমর'া মূলত মনোনিবেশ করছি।”

তিনি বলেন, “বাটার দেশব্যাপী ২ হাজারেরও বেশি শোরুম রয়েছে এবং আমর'া গর্বিত যে বাংলাদেশের বৃ'হত্তম অনলাইন জুতার দোকান আমা'দের। এছাড়া গ্রাহকরা যে কোনো সময় অর্ডার করতে পারেন এবং বিনামূল্যে তাদের ঠিকানায় পণ্য সরবরাহ করা হয়।”

মল্লিক আরও বলেন, “রমজানের পরবর্তী সময়ে আমর'া গ্রাহকের মাঝে চাহিদা বৃ'দ্ধির বি'ষয়টি লক্ষ্য করছি। একই সাথে গ্রাহকের আস্থারও উন্নতি হচ্ছে। যদি আগামী মাসগু'লোতে কোভিডের বিধিনিষে'ধ না থাকে, তবে আমর'া আশা করছি এ বছরের শেষ দিকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াব।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাটা’র এক শীর্ষ কর্মক'র্তা বলেন, “আমর'া চে'ষ্টা করছি মুনাফা পুনরু'দ্ধারের। কিন্তু করো’নাভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গের কারণে কিছুটা সময় লাগবে পুনরু'দ্ধারে।”

Facebook Comments
Back to top button