নেই একটি পা ও হাত, তবু হার মানেননি মিজানুর

একটি পা ও একটি হাত নেই। ঘোড়ার গাড়িতে অন্যের জমি থেকে ধান বহন করে সংসার চালান নাটোরের মিজানুর রহমান (৫০)। ৩৩ বছর আগে বৈদ্যুতিক দু’র্ঘটনায় তার বাম হাত ও বাম পা কা’টা পরে। শত চে’'ষ্টায়ও পঙ্গু'’ত্ব থেকে রক্ষা পাননি তিনি। তবুও থেমে নেই জীবন।

একসময় ভাঙ্গু'’রা উপজে’লায় ঘোড়ার গাড়ি চালাতেন মিজানুর। এখন নাটোরের গু'’রুদাসপুর উপজে’লার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী গ্রামে ঘোড়ার গাড়িতে ধান বহন করে জীবন-জী’'বিকা নির্বাহ করছেন। স্ত্রী ও তিন ছেলে এবং একটি প্রতিব’ন্ধী মেয়েকে নিয়ে অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘর করে বসবাস করছেন তিনি।

জীবন যু’'দ্ধে হার না মানা মিজানুর জাগো নিউজকে জানান তার জীবন যু’'দ্ধের গল্প।
তিনি বলেন, আমা’র গ্রামের বাড়ি ভাঙ্গু'’ড়া উপজে’লার খানমর'’িচ ইউনিয়নের মা’দারবাড়ি গ্রামে। ১৭ বছর বয়সে একটি বৈদ্যুতিক দু’র্ঘটনায় বাম হাত ও বাম পা কা’টা পড়ে। আমা’র বাবা ছিলেন একজন অতি দরিদ্র কৃষক। অভাবের কারণে আমা’র সঠিক চিকিৎসাও করাতে পারেননি তখন। তারপর থেকেই শুরু হয় আমা’র জীবনযু’'দ্ধ।

আমা’র তিন ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ইয়াদুল ইসলাম (১১) আমা’র কাজে সহযোগিতা করে। মেজ ছেলে রাজিকুল ইসলাম (৭) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় ও ছোট ছেলে রাজিবের বয়স ১ বছর এবং ৪ বছরের মেয়ে আজমিরা প্রতিব’ন্ধী । ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন গড়ে আয় ২৫০-৩০০ টাকা আয় হয়। কোনো কোনো দিন কাজ থাকে না। শেষ সম্বল বলতে আমা’র তিনটি ঘোড়া ছাড়া আর কিছুই নেই।

কোনো ধরনের সহায়তা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, সরকারিভাবে কোনোরকম সহযোগিতা এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে আমি পরিশ্রম করে সংসার চালিয়ে নিচ্ছি কিন্তু সহযোগিতা পেলে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারব। প্রতিব’ন্ধী ত্ব আমাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। কারও কাছে হাত না পেতে নিজের জী’'বিকার ব্যবস্থা করার চে’'ষ্টা করি। সেই থেকে এগিয়ে চলার অদম্য শক্তি নিয়ে এখনও ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জী’'বিকা নির্বাহ করছি।

ঘরের জন্য মিজানুরকে জমি দেয়া নজু আলী জানান, তাকে জমিতে থাকতে দিয়েছি মান’'বিক দিক বিবেচনায়। আমা’দের সমাজে এখনও অনেক মানুষ সুস্থ থেকেও সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে জীবন চালাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিব’ন্ধী মিজানুর রহমান তা করেননি। তিনি পঙ্গু'’ত্বকে হার মানিয়ে জী’'বিকা নির্বাহ করে চলছেন।

এ বি’ষয়ে গু'’রুদাসপুর উপজে’লা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তমাল হোসেন বলেন, আপনার মাধ্যমে প্রতিব’ন্ধী মিজানুর রহমানের বি’ষয়টি জানতে পারলাম। উপজে’লা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে সহযোগিতা করা হবে এবং আমি আমা’র ব্যক্তিগতভাবেও তার পাশে দাঁড়ানোর চে’'ষ্টা করব।

Facebook Comments
Back to top button