কোরবানি ঈদ পর্যন্ত লকডাউন রাখার তাগিদ

বর্তমানে দেশে করো’’নার সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। তবে মৃ'’ত্যু এই বাড়ছে, এই কমছে। এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভা’রতে করো’’নার তা’ণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। বিশেজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ ভা’রতের যে করো’’না পরিস্থিতি তাতে বাংলাদেশকে আরো সতর্ক অবস্থানে যেতে হবে৷

এখন দেশে করো’’নায় মৃ'’ত্যু হার একটু কমে আসছে৷ আর সেই সাথে শিথিল হয়ে আসছে লকডাউন৷ আসছে ৫ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানো হলেও গণপরিবহন ছাড়া আর সব কিছুই এখন খোলা৷ গণপরিবহনও চালুর দাবি জানানো হয়েছে৷ এরই মধ্যে গতকাল (২৯ এপ্রিল) করো’’না পরিস্থিতির উন্নতি হলে ঈদের পর ২৩ মে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে বলে জানায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদ'প্ত র৷

দেশে গেলো ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হয়৷ এরপর দুই দফা বড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে৷ এদিকে ঈদকে সামনে রেখে দোকানপাট, শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকছে৷ সংক্রমণ রোধে ভা’রতের সাথে বাংলাদেশে স্থল সীমা'ন্ত বন্ধ রয়েছে৷ তবে পণ্য পরিবহন অব্যাহত আছে৷ বিমান যোগাযোগও বন্ধ আছে৷

বিএসএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কাম’রুল ইস’লাম বলেন, ভা’রতের অবস্থা বাংলাদেশে আতঙ্ক সৃ'ষ্টি হয়েছে৷ এখনো বাংলাদেশে ভা’রতীয় ভ্যারিয়েন্টটির উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷ তবে সেটা যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে৷

কয়েকদিন ধরে মৃ'’ত্যু একশ’র নিচে আছে আর সংক্রমণের হারও কমছে৷ কিন্তু একই সঙ্গে পরীক্ষাও কমছে৷ বৃহস্পতিবার ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে ৮৮ জন মা’রা গেছেন৷ শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৩৪১ জন৷ ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার কমে শতকরা ৯.৪৯ ভাগ হয়েছে৷ এখন পর্যন্ত দেশে করো’’নায় মা’রা গেছেন ১১ হাজার ৩৯৩ জন৷ আর শনাক্ত হয়েছেন সাত লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৫ জন৷

এই বি'ষয়টি নিয়ে আইইডিসিআর-এর উপদে'ষ্টা ডা. মুশতাক হেসেন বলেন, পরীক্ষা বাড়তে হবে৷ আর পরীক্ষার ফি তুলে দিতে হবে বা আরো কমতে হবে৷ ততে টেস্ট বাড়বে এবং বাস্তব অবস্থা আরো ভালো’ভাবে বোঝা যাবে৷ সংক্রমণ এখনো ১০ ভাগের মতো আছে৷ এটা শতকরা পাঁচভাগের নিচে না নামলে কমছে বলা যাবে না৷

তিনি বলেন, বাংলাদেশে, লকডাউন হচ্ছে না৷ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, বিধিনিষে'ধ আরোপ করা হচ্ছে৷ তবে এটা আরো তিন- সাড়ে তিন মাস অব্যাহত রাখতে হবে৷ না হলে পরস্থিতি আরো খা’রাপের দিকে যেতে পারে৷

অধ্যাপক ডা. কাম’রুল ইস’লাম বলেন, দেশ কেনোভাবেই এখনো আশ’ঙ্কার বাইরে যেতে পারেনি৷ আর এখন একটু কমছে, দুইদিন পর যে বাড়বে না তা কেউ বলতে পারে না৷ করো’’নার টিকা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে৷ তাই এখন স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়া উপায় নেই৷ মাস্ক পরতেই হবে৷ স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করার কোনো সুযোগ নাই৷

এখন দোকান, শপিং মল, ম’সজিদে স্বাস্থ্যবিধি মানাই বড় চ্যালেঞ্জ৷ গণপরিবহন চালু হলে এই চ্যালেঞ্জ আরো বাড়বে বলে মনে করেন ডা. মুশতাক হোসেন৷ ব'দ্ধ ঘরে কোনো সমাবেশ, অনুষ্ঠান করা যাবে না৷ আর এগুলো করতে হবে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে৷

তিনি বলেন, লকডাউনের সুফল কিছুটা হলেও পাওয়া যাচ্ছে৷ আরো দুই স'প্ত াহ পর ফলাফল আরো ভালো বোঝা যাবে৷ তবে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হলে কোরাবানির পরেও লকডাউন চালিয়ে যেতে হবে৷

এদিকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, করো’’নার রোগীদের জন্য বেড এবং আইসিইউ বেডের সংকট অব্যাহত আছে৷ গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকার সরকারি হাসপাতা’লে ৫৮টি আইসিইউ বেড খালি দেখানো হলেও রোগীরা আইসিইউ বেড না পেয়ে হাসপাতা’লে ভর্তি হতে পারছেন ন৷ ফলে কেউ কেউ বাসায় মা’রা যাচ্ছেন৷ গত ২৪ ঘন্টায় বাসায় মা’রা গেছেন তিন জন৷

সূত্র : ডয়চে ভেলে থেকে পরিমা’র্জিত।

Facebook Comments
Back to top button