গাজায় হাসপাতালে ধুঁকছে রোগী

গাজার আল-আকসা হাসপাতালের দৃশ্য যেন যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রতিচ্ছবি। এখানে অসুস্থ বিসান আবু আমির চিকিৎসার আশায় অপেক্ষা করছেন, কিন্তু সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে তাঁর রোগ নির্ণয়ও সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালজুড়ে অসহায় রোগীর ভিড়, চিকিৎসা নেই, শুধু বেঁচে থাকার লড়াই।

একই ওয়ার্ডে ১৩ বছর বয়সী ওয়ালিদ নামের এক কিশোর পড়ে আছে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে। তার মা জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর ছোড়া বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ছেলেটি নড়াচড়া বা কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েছে।

গাজায় এখন ঘরবাড়িহীন হাজারো মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। চিকিৎসাসেবা না থাকায় অগণিত রোগী মৃত্যুমুখে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে অন্তত ১০ হাজার মরদেহ, উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে যেগুলো তুলতে পারছেন না কেউ। এর মধ্যেই অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৬ জনে পৌঁছেছে।

আলজাজিরা জানায়, প্রায় চার হাজার শিশুসহ ১৫ হাজার রোগী এখনো গাজার বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায়, কিন্তু মিসরের রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় তারা আটকা পড়েছেন। এদিকে হামাস তিন ইসরায়েলি সেনার মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে, আর হামলায় পশ্চিম তীরজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি এখনো নিখোঁজ, আর ৯০ শতাংশ বেসামরিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন লাখ তাঁবু পাঠানোর কথা থাকলেও ইসরায়েল তা পাঠায়নি, ফলে লাখো মানুষ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

Back to top button