টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় হারল বাংলাদেশ

শুরুটাও হয়েছিল দুর্দান্ত। লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৬৬ রান—একটি তুলনামূলক সহজ টার্গেট, বিশেষ করে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ইনিংসের প্রথম ওভারে আকিল হোসেইনের বিপক্ষে তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান মিলে তুলেছিলেন ১২ রান—একটি ছক্কা ও একটি চারের মারেই। দেখে মনে হচ্ছিল, সহজেই জয় তুলে নেবে টাইগাররা।
কিন্তু বিপত্তি শুরু হয় দ্বিতীয় ওভারেই। জেডেন সিলসের দ্বিতীয় বলেই রোমারিও শেফার্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তানজিদ তামিম। এখান থেকেই ধস নামতে থাকে ব্যাটিং লাইনআপে। পরপর লিটন দাস, সাইফ হাসান, শামিম হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান ফিরলে দলীয় স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানে ৫ উইকেটে। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারিত।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু তিনিও দলীয় ৭৭ রানের মাথায় আউট হয়ে গেলে, হারের আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উইকেটে থাকা ব্যাটাররা উইন্ডিজ বোলারদের দাপটে টিকতে পারছিলেন না, রান তোলাও হচ্ছিল মন্থর।
তবে এরপরই দেখা যায় টাইগারদের লোয়ার অর্ডারের দারুণ লড়াই। ব্যাট হাতে সবাই চেষ্টা করেছেন দলকে যতটা সম্ভব কাছে নেওয়ার। তানজিম হাসান সাকিব খেলেন ২৭ বলে ৩৩ রানের দারুণ ইনিংস, যেটি ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াই ফিরিয়ে আনে। নাসুম আহমেদ করেন ১৩ বলে ২০, তাসকিন আহমেদ ৮ বলে ১০ আর মোস্তাফিজুর রহমান ৮ বলে ১১ রান করে দলকে এগিয়ে নেন।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৯.৪ ওভারে ১৪৯ রানে। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও মাত্র ১৭ রান। একসময় মনে হয়েছিল, হয়তো অসম্ভবকে সম্ভব করবে টাইগাররা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৬ রানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। তবুও শেষ দিকের সেই লড়াই সমর্থকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে—এই দল লড়তে জানে, হাল ছাড়ে না।