নিজের জীবন বাজি রেখে বাঁচিয়েছিলেন অন্ধ মায়ের ছেলের জীবন, রেলক’র্মীর মহৎকাজের সংবর্ধনা দেশজুড়ে

কথায় আছে রাখে হরি মা’রে কে! এই বি’ষয়টি আরো একবার প্রমাণ হল সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে। গত ১৭ এপ্রিল সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ মহারা’'ষ্ট্রের ভানগানি স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্মে একটি ৬ বছরের শিশু মা এর হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে একদম প্লাটফর্মে ধারের দিকে চলে আসে

সে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাচ্চাটি আচমকাই মা এর হাত থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজের শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরে হঠাৎই বাচ্চাটি রেললাইনের মাঝে পড়ে যায়। অন্যদিকে শিশুটির মা সঙ্গীতা দৃ’'ষ্টিহীন হওয়ায় সে বুঝতে পারেনি বি’ষয়টি ঠিক কী ঘটেছে। কিন্তু সে এই টুকু বুঝতে পারছিল যে চারিদিকে অ’স্বাভা’'বিক কিছু ঘটেছে। কারণ ওই বাচ্চাটি রেললাইনে পড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই লাইন দিয়ে দুরন্ত গতিতে ট্রেন প্লাটফর্মে ঢুকে পড়ে।

ঠিক সেইসময়ে শিশুটির দৃ’'ষ্টিহীন মা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রেলের “পয়েন্টস ম্যান” ট্রেন প্লাটফর্মে ঢোকার আগের মুহূর্তেই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন থেকে শিশুটিকে সরিয়ে বাঁচিয়ে নেন তিনি।এরপর ওই রেলকর্মী বা ‘পয়েন্টস ম্যান’-এর এই অ’সাধারণ সাহসীকতার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ‘পয়েন্টস ম্যান’ অর্থাৎ ময়ূর এই প্রসংগে বললেন যে, ”ওই শিশুর সঙ্গে যে মহিলা ছিলেন, তিনি দৃ’'ষ্টিহীন। তাই তিনি কিছু করতে পারতেন না। ওই শিশুকে দেখেই রেললাইন ধরে ছুটে যাই। প্রথমে একবার ভয়ও হয়। মনে হয়, শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে আমি বিপদে পড়ে যাব’। পরক্ষণেই মনে হয়, আমা’র ওকে বাঁচানো উচিত। ঘটনার পর ওই মহিলা খুবই আবেগপ্রবাণ হয়ে পড়েন। বার বার আমাকে ধন্যবাদ জানান। পরে ফোন করেছিলেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ”।

রেলে কর্মর’ত ‘পয়েন্টস ম্যান’ ময়ূরের এইরূপ সাহসিকতা দেখে তার সঙ্গে কর্মর’ত বন্ধুরা তাকে নিয়ে খুবই গর্ববোধ করেছেন। তাই সেন্ট্রাল রেলওয়ে অফিসে ময়ূর ঢুকতেই তার সহকর্মীরা তার এই বীরত্বের জন্য হাততালি দিয়ে তাকে সম্মান জানিয়েছেন।

তার এই কাজের জন্য তাঁকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়েছে। রেলকর্মীর ময়ূরের এই বীরত্বমূলক কাজের পরিচয় পেয়ে রেলমন্ত্রকও তার প্রতি গর্বিত। তাই রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তুলে ধরে এই প্রসঙ্গে নিজে টুইটারে টুইট করে লিখেছেন, “ময়ূর শেলকের কাজে আমর’া খুবই গর্বিত। ভানগানি স্টেশনে নিজের জীবন বাজি রেখে শিশুকে বাঁচিয়ে ব্যতিক্রমী সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।”

Facebook Comments
Back to top button