লিচু গাছে আম ধ’রার ঘটনাটি ভু’য়া

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও সদরের একটি গ্রামে লিচু গাছে থোকার সাথে আম ধ’রার ঘটনা ভাই’রাল হয় সারাদেশে। বিরল এই ঘটনাটি ঘটে সদর উপজে’লার সিঙ্গিয়া কলোনিপাড়া গ্রামের আবদুর রহমানের বাড়ির একটি লিচু গাছে। কিন্তু মঙ্গলবার হঠাৎ র’হস্যজনকভাবে সেটি ছিঁড়ে ফেলা হয়।

আম ধ’রা ও ছেঁড়া এই দুই ঘটনা নিয়েই এখন সারাদেশে চলছে আলোচনা। এদিকে গত কয়েক দিন এ ঘটনার কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি উদ্যানতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা। প্রথম থেকেই বি'ষয়টি নিয়ে তাদের আ’পত্তি থাকলেও পরিষ্কার করে কোনো বিশেষজ্ঞ তা বাতিল করেননি। অবশেষে জানা যাচ্ছে, চ’মক সৃ'ষ্টির জন্য এটি ছিল সাজানো নাট’ক।

কারণ আম ছেঁড়ার একদিন বাদে (বুধবার) সেই আ’মের বোঁটা শুকিয়ে গেছে, যা স্বাভা'বিকভাবে আম ছিঁড়ে নেওয়ার পরে বোঁটার মতো নয়। সঙ্গে আঠাজাতীয় পদার্থের উপস্থিতিও রয়েছে বলে ধারণা হচ্ছে অনেকেরই।

আম ছিঁড়ে ফেলার পরও (বুধবার) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ঠাকুরগাঁও কার্যালয় ওই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে। এর আগে সোমবার থেকে দুই কর্মক’র্তা আম ধ’রার বি'ষয়টি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘বি'ষয়টি ম্যানুপুলেট করা হয়েছে, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। হয়তো এটি কেউ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছিল। অথবা অন্য কোনো কৌশলে এটি করা হয়েছে। এখানে লিচুর বোঁটাটি লম্বা হলেও আ’মেরটি স্বাভা'বিকের তুলনায় খুব খাটো। এসব দেখে বি'ষয়টি খট’কা লাগছে প্রথম থেকেই।

তিন বলেন, ছিঁড়ে ফেলার কারণে এখন সেটা বোঝা যাচ্ছে। বোঁটা শুকিয়ে গেছে, যা স্বাভা'বিক বোঁটার মতো নয়। বেশ কালচে। বি'ষয়টি আম’রাও পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আমটি রাখতেও বলা হয়েছিল ওই পরিবারকে। কিন্তু সেটা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনা বেশি ছড়িয়ে পড়ছিল বলেই সেটি করা হয়েছে।

সেখানে উপস্থিত কয়েকজন কৃষি কর্মক’র্তা বলেছেন, আমটি যদি বড় 'হতে থাকে, তখন সেটাকে অ'স্বাভা'বিক ঘটনা হিসেবে নেওয়া হবে। তখন এটা নিয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে।

কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে পরদিন আমটি ছিঁড়ে ফেলা হয় র’হস্যজনকভাবে। এরপর থেকেই ওই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ এটিকে নাট’ক বলে অ’ভিহিত করছেন। তবে যারা নিজের চোখে লিচুর গাছে আম ঝুলতে দেখেছেন তারা বি'ষয়টি অলৌকিক বলেই ধরে নিয়েছেন। এ নিয়ে ওই এলাকা, এমনকি সারাদেশে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এদিকে বুধবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মক’র্তা ড. মো. রফিকুল ইস’লাম বলেন, ঘটনাটি আমি জানার পর থেকেই অ'সম্ভব বলে ধরে নিয়েছি। এমন ঘটনা কোনোভাবে 'হতে পারে না। এক গাছে অন্য ফল শুধু গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব। তবে লিচু ও আ’মের ক্ষেত্রে এটা করা যাবে না। লিচু ও আ’মের টিস্যু সিস্টেম এক নয়।

রফিকুল ইস’লাম বলেন, লিচুর সঙ্গে আমগাছের ডাল জোড়া লেগেছে এমন উদাহ’রণ নেই। লিচু ও আম এক পরিবারের উদ্ভিদ নয়। ক্রোমোজম সংখ্যা যদি এক হয়, তবে অনেক সময় ঘটতে পারে। সেটাও নয়। উদ্ভিদতত্ত্বে এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।

তবে লিচু গাছটির মালিক আবদুর রহমান বলে আসছিলেন, কোনো প'দ্ধতি নয়। স্বাভা'বিকভাবেই সেখানে আম ধরেছে। গত শনিবার সকালে তার নাতি হৃদয় ইস’লাম এসে তাকে জানায়, লিচুগাছে একটা আম ধরেছে। তিনি গিয়ে গাছে লিচুর থোকার একপাশে একটি আম দেখে অ’বাক হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ এটি দেখতে ভিড় করতে শুরু করেন। এরপর সোমবার বি'ষয়টি দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে উঠে আসে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার এলাকার সাবেক মেম্বার সিকিম লিচুগাছ থেকে আমটি ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে অ’ভিযোগ করেন আবদুর রহমান।

ওই অ’ভিযু’ক্ত মেম্বার প্রথম’দিকে আমটি ছিঁড়ে ফেলার কথা স্বীকার করলেও পরে বি'ষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দেন।

তিনি জানান, সারাদিন অনেক দূর থেকে গাড়ি নিয়ে মানুষ আসছে। এতে সোমবার তার ভাতিজা মোটরসাইকেল দু'র্ঘ’টনায় আ’'হত হন। করো’’নার ঝুঁ’কি বেড়েছে। তাই আবদুর রহমানকে মানুষের সমাগম কমানোর জন্য বলতে গিয়েছিলাম। ওই সময় কেউ আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে।

Facebook Comments
Back to top button