প্রধানমন্ত্রীর কাছে চট্টগ্রামের ব্যাংকার কন্যার বিচার দাবি

‘আয় রে আমার কাছে আয় মামণি, এ হাতটা ভালো করে ধর এখনই…’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরেলা এই ডাকে আছে মেয়ের প্রতি বাবার চিরায়ত স্নেহ আকু’লতা। হাত ধরে হাঁটতে শেখা থেকে শুরু জীবনে বাবাই বড় নিরাপ'ত্তা। বাবা-মেয়ের সম্পর্কটা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মাধুর্যতার।

নির্মল, নিঃস্বার্থ আর পবিত্র এই সম্পর্কে পৃথিবীর বেশিরভাগ মেয়ের কাছেই বাবা শ্রেষ্ঠ আইডল। এই সম্পর্কে যেমন থাকে মান-অ'ভিমান, তেমনই থাকে ভালোবাসা। খুব কম মেয়েই আছে, যাদের মনে বাবার জন্য বিশেষ দুর্বলতা নেই। মেয়ের কাছে বাবা যেন ছোট্ট একটি ছেলে। যাকে ভালোবাসে, শাসনও করে। যত্ন নেয়, আবার বকাও দেয়। সব বাবাই মেয়ের কাছে শ্রেষ্ঠ বাবা। বাবারা হন মেয়ের জন্য জান-প্রাণ। বাবা সুখ খুঁজে পান মেয়ের সুখেই।

বাবা-মেয়ের এমন ভালোবাসার বন্ধনই ছিল চট্টগ্রামের তরুণ ব্যাংক কর্মক'র্তা আকতার মোর্শেদ চৌধুরী ও তার কন্যা মোবাশ্বিরা জাহান চৌধুরী জুমেরও। ১২ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুমের সঙ্গে তার বাবা কখনো একটু জোরে কথা বলেননি। কখনো শাসাননি। পরীক্ষায় সামান্য মার্কস কম পেলে মা ব’কু’নি দিলেও বাবা আনতেন গিফট। কখনো কখনো মেয়ের স্কুলের পুরো বছরের ফি আগাম দিয়ে রাখতেন বাবা। সেই কলিজার টুকরা মেয়েটির কথা ভুলে গিয়ে তার বাবা হঠাৎ সু’ই”সা’ই’ড করলেন গলায় দড়ি দিয়ে! কতটুকু মানসিক চাপ পেলে এমন কোনো বাবা সু’ই”সা’ই’ড এর পথে যেতে পারেন, তা ভাবনারও বাইরে ছিল বলে জানান ব্যাংকারের স্ত্রী।

গত ৭ এপ্রিল এই ঘটনার পর শিশু কন্যা জুম বাবার শূন্যতায় একেবারেই চুপচাপ, নি’র্বা’ক। কো’ভি’ড আ’ক্রা'’ন্ত হয়ে মা আ’ইসো’লেশ’নে চলে যাওয়ার পর মৃ'’ত্যু’র আগে টানা ২০ দিন বাবার কাছেই ছিল জুম। সেই বাবা নেই। বাবাকে তার এখন খুব মনে পড়ছে। বাবা হা’রা’নো নি’র্বা’ক জুম চোখের সামনে দেখছে, উ’পর্যু’প’রি বাড়তি পাওনা চেয়ে মা’ন’সি’ক নি”র্যা”ত’ন, মা’ম’লা, ‘হ”'ত্যা’ ও ‘গু'’মে’র হু’ম’কি’সহ চাপ প্রয়োগ করে তার বাবাকে যারা ”হ”'ত্যা’য় প্র’রো’চনা দিয়েছিল, মা’ম’লা দা’য়ে’রের পরেও তারা ধ’রা পড়েনি।

সুনির্দি'ষ্ট নাম উল্লেখ করা আ’সা’মিসহ তাদের সহযোগী হুইপ পুত্র শারুণ চৌধুরীরা গ্রে'’ফ’তার এড়িয়ে চলেছেন। উল্টো নানাভাবে ভ’য়-ভী’তি দেখাচ্ছেন তারা।ভা’গ্যাহ’ত জুমের মা অর্থাৎ ব্যাংকার মোর্শেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইসরাত জাহান চৌধুরী জানালেন, ‘আ’সা’মি’রা কোথায় পালিয়ে থাকতে পারে তার ধারণাও প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। অথচ আ’সা’মি গ্রে'’ফতা’রে পু'লিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো খবর নেই।’ এমন উ’দ্বেগ অ’সন্তো’ষে’র সময়ে চেপে থাকা সব ক্ষো’ভ নি’ন্দা প্রকাশ ঘটাল জুম তার শিল্পিত ছোঁয়ায়।‌ প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বাবার ছবি আঁকে সে। আঁকতে আঁকতে মায়ের জিজ্ঞাসার জবাবে ফিরে যায় স্মৃ'’তির মায়াবী পর্দায়।

মাকে জুম জানায়,“পাপা বলেছিল, ‘তুমি এত ছবি আঁকো, আমার ছবি তো কোনোদিন আঁকোনি।’বাবার কথা মনে করে সু’ই”সা’ই’ড প্র’রো’চনার বিচার দাবিতে নীরবে ছবি আঁকে জুম, আর পাশে বসা তার মায়ের চোখে বয়ে যায় অ’শ্রুধা’রা। বাবার ছবি এঁকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে, এই রা'ষ্ট্রের কাছে আ’সা’মিদের গ্রে'’ফ’তার ও বিচার চাইল শিশু কন্যা জুম। ছবির এক পাশে স্লোগান লিখল সে , ‘Justice for my Daddy’।

Facebook Comments
Back to top button