লকডাউনে মিলছে না ভিক্ষা, না খেয়ে ‘প্র’তিব’ন্ধী পরিবার’

মোন্নাফ আলী (৫৮) দৃ’'ষ্টি প্রতিব’ন্ধী ভিক্ষুক হিসেবে পরিচিত এলাকায়। তার ভিক্ষার টাকায় চলে পরিবারের ছয় সদস্যের সংসার। এদের মধ্যে আবার এক ছেলে ও এক মেয়ে তার মতোই জন্ম থেকেই দৃ’'ষ্টি প্রতিব’ন্ধী ।

মোন্নাফ আলী নিজে একে তো দৃ’'ষ্টি প্রতিব’ন্ধী তার উপর বয়সের কারণে আগের মতো চলাচল করতে পারেন না। তবুও পরিবারের সদস্যদের তিন বেলা আহার ও চিকিৎসা ব্যয় যোগাতে প্রতিদিন স্ত্রীর হাত ধরে ভিক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হয় তাকে। কিন্তু গত তিন দিন ধরে কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। ভিক্ষা করতে না পারায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

আজ শুক্রবার ‘'বিকালে রংপুরের পীরগাছা উপজে’লার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের রহমত চর গ্রামের বাসি’ন্দা দৃ’'ষ্টি প্রতিব’ন্ধী ভিক্ষুক নামে পরিচিত মোন্নাফ আলীর(৫৮) সঙ্গে কথা হয়।

তিনি জানান, পরিবারের ৩ জন সরকারি প্রতিব’ন্ধী ভাতা পায়। তবে সেই টাকার চেয়েও বেশি টাকা খরচ হয় পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসায়। তাই খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে ভিক্ষার ‘'বিকল্প নেই তার। বাধ্য হয়েই স্ত্রীর হাত ধরে ভিক্ষার আশায় ঘোরেন তিনি।

তিনি আরো জানান, গত কয়েক দিন ধরে অলস সময় পার করছেন। একদিন ভিক্ষা না করলে অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হয় পরিবারের ছয় সদস্যকে। ফলে নিত্যদিনেই ভিক্ষা করতে হয় তাকে। মাঝে মাঝে বেশি ভিক্ষার আশায় মোন্নাফ আলী তার দৃ’'ষ্টি প্রতিবন্ধি মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে ভিক্ষায় বেরিয়ে পড়েন। লকডাউনের প্রথম দিনে পীরগাছা উপজে’লা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরেও তেমন আয় হয়নি। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন। ভিক্ষা করতে না পাড়ায় স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

বর্তমানে তার সংসারে স্ত্রী অমিলা বেগমসহ চার সন্তান রবিউল ইসলাম (২৬), আমেনা খাতুন (১৬), জামেলা খাতুন (১৫) ও রেজাউল ইসলাম(১২)। এদের মধ্যে জন্ম থেকে দৃ’'ষ্টি প্রতিব’ন্ধী আমিনা খাতুন ও রেজাউল ইসলাম বলেন, বাবা তো হাঁটতে পারে না। তাই আমর'’াও মাঝে মাঝে বাবার সাথে ভিক্ষা করতে যাই। অনেক সময় আমর'’া না খেয়ে থাকি। কেউ আমা’দেরকে সহযোগিতা করে না।

ক্ষুধার যন্ত্রণায় অন্ধ দুই সন্তানসহ স্ত্রী ও শারীরিকভাবে অ’সুস্থ সন্তানরা মোন্নাফ আলীকে ভিক্ষার জন্য বাইরে বের ‘'হতে কাকুতি মিনতি করেন। কিন্তু বাইরে তেমন লোকজন নেই এবং আইনশৃঙ্খলার ভয়ে বাইরে বের ‘'হতে পারছেন না মোন্নাফ আলী। এছাড়া তার শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ায় বেশি সময় হাঁটতেও পারেন না তিনি।

উপজে’লার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাহেব উদ্দিন জানান, প্রতিব’ন্ধী ভাতা পাওয়ায় তাদেরকে আর কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি।
পীরগাছা উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, বি’ষয়টি আমা’র জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments
Back to top button