ফের লকডাউন দেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

দেশে করো’’নাভাই’রাসের সংক্রমণ ভ’য়াবহরূপে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে গড় শনাক্তের হার ২৩ শতাংশে পৌঁছে গেছে। রাজধানীর কোনো কোনো আরটিপিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদ'প্ত র ৩০ জে’লাকে অধিক ঝুঁ’কিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এসব জে’লায় সংক্রমণের হার ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। শনাক্ত ও মৃ'’ত্যুর হার প্রতিদিন নতুন রেকর্ড সৃ'ষ্টি করছে।

দেশের করো’’না পরিস্থিতি আরও ভ’য়ংকর হয়ে ওঠার আগেই কঠোর বিধিনিষে'ধ আরোপ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁ’চাতে হলে এখনই, এই মুহূর্তে কমপক্ষে দুই স'প্ত াহের জন্য ঢাকাসহ সর্বোচ্চ সংক্রমণ প্রবণ ৫টি শহরে কারফিউ (লকডাউনের আদলে) জারি করতে হবে।

বাকি ঝুঁ’কিপূর্ণ জে’লাগু'লোতে কঠোরভাবে সরকার নির্দেশিত ১৮ দফা বিধিনিষে'ধ প্রতিপালন করতে হবে। অন্যথায় আসছে স'প্ত াহে দৈনিক আ’ক্রা'ন্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও অ’বাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তাদের আরও অ’ভিমত, রোগতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্যবিদরা করো’’না পরিস্থিতি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। ফলে গত ১৬ তারিখে একটি স্বাস্থ্য অধিদ'প্ত রে এ সংক্রা'ন্ত একটি সভা করে ১২ দফা সুপারিশ প্রদান করেন।

কিন্তু সেই সুপারিশ সরকার আমলে নেয়নি। এরপর সংক্রমণ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করলে ২৮ মা’র্চ অধিক সংক্রমিত এলাকার জন্য কঠোর বিধিনিষে'ধসহ ২২ দফা এবং অ’পেক্ষাকৃত কম সংক্রমণপ্রবণ এলাকার জন্য ১৮ দফা সুপারিশ প্রদান করেন তারা।

কিন্তু সরকারের সংশ্লি'ষ্টরা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত আমলে না নিয়ে সারা দেশের জন্য ১৮ দফা নির্দেশনা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেন।

এমনকি মেলা, বিপণিবিতান, খেলা, পাবলিক পরীক্ষা ই'ত্যাদি স্বাভা'বিক নিয়মে চালানোর সি'দ্ধান্তও পরিবর্তন করেনি সরকার। প্রশাসনের কর্মক’র্তাদের এ ধরনের আচরণে 'হতবিহবল হয়ে পড়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোভিড-১৯ সংক্রা'ন্ত জাতীয় কারিগরি পরাম’র্শক কমিটির সভায় রোগীর সেবা বাড়ানো, বিনোদন কেন্দ্র, বইমেলা ও অন্যান্য মেলা বন্ধ করাসহ পাঁচ দফা গু'রুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে লকডাউন দেওয়া ছাড়া কোনো 'বিকল্প নেই।

বিশেষ সর্বোচ্চ ঝুঁ’কিপূর্ণ ৫টি জে’লায় (ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মৌলভীবাজার) কারফিউর আদলে লকডাউন দিতে হবে। লকডাউন ঘোষণা-পরবর্তী ১৪ দিন কঠোরভাবে সেটি প্রতিপালন করতে হবে।

দিনের একটি নির্দি'ষ্ট সময় এক বা দুই ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হবে। যখন সবাই তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগু'লো কিনতে পারে।

অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, এছাড়া উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০টি জে’লায় সরকারি নির্দেশিত ১৮ দফা কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। অন্যথায় আগামী স'প্ত াহে দেশে দৈনন্দিন আ’ক্রা'ন্ত রোগীর সংখ্যা বর্তমানের দ্বিগু'ণ হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদ'প্ত র জানিয়েছে, দেশে করো’’নাভাই’রাসের সংক্রমণ অব্যা'হত বৃ'দ্ধির ধা'রায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর নতুন রেকর্ড হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬ হাজার ৪৬৯ জনের মধ্যে করো’’নাভাই’রাসের সংক্রমণ ধ’রা পড়েছে। এই সময়ে মৃ'’ত্যু হয়েছে আরও ৫৯ জনের।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, যেভাবে প্রতিদিন করো’’না সংক্রমণের হার বাড়ছে, এভাবে চলতে থাকলে দেশে কোনো হাসপাতা’লেই রোগী রাখার জায়গা থাকবে না।

এজন্য করো’’নার বৃ'দ্ধি ঠেকাতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে এখনই। প্রধানমন্ত্রীর ১৮টি নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নসহ সব স্থানে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে না পারলে আগামীতে এই প্রকো'প ভ’য়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামছুজ্জামান বলেন, আমা'দের পিসিআর ল্যাবে গত বছরের মধ্যে গত চব্বিশ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫৫৬ (চার হাজার পাঁচশ ছাপ্পান্ন)টি কোভিড-১৯ আরটি পিসিআর পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

তার মধ্যে ১০৮৭ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। যা মোট পরীক্ষিত নমুনার ২৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পরিস্থিতির ভ’য়াব'হতা বিবেচনায় তিনি সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

রাজধানীর শ’হীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তাদের পিসিআর ল্যাবে কোভিড পজিটিভ রোগীর শনাক্তের হার ৫৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গতকাল জাতীয়ভাবেও সারা দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক কোভিড পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগামী কয়েকদিন অবশ্য প্রতিনিয়তই এ রকম রেকর্ড ভাঙাগড়ার খেলা চলতে থাকবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত বছর ৮ মা’র্চ করো’’নাভাই’রাসের প্রথম সংক্রমণ ধ’রা পড়ার এক বছর পর গত সোমবার প্রথমবারের মতো এক দিনে পাঁচ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্তের খবর আসে।

তার মধ্য দিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছয় লাখ ছাড়িয়ে যায়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মা’র্চ দেশে করো’’নাভাই’রাসে প্রথম মৃ'’ত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল সরকার, বুধবার তা নয় হাজার ছাড়িয়ে যায়।

পরাম’র্শক কমিটির সুপারিশ : দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোভিড-১৯ সংক্রা'ন্ত জাতীয় কারিগরি পরাম’র্শক কমিটির সভায় পাঁচ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লা কমিটির পক্ষে সুপারিশগু'লো গণমাধ্যমে পাঠান।

এগু'লো হচ্ছে-১. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সম্প্রতি করো’’না সংক্রমণ কমানোর লক্ষ্যে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। পরাম’র্শক কমিটি এই নির্দেশনা জারিকে স্বাগত জানায় এবং ধন্যবাদ জানায়।

তবে এগু'লো কার্যকর করার জন্য বাস্তবায়ন কর্মসূচি বা প্রস্তুতি বি'ষয়ে সুনির্দি'ষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। ২. হাসপাতালসমূহে যথাসম্ভব কোভিড-১৯ রোগীর শয্যা সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।

আইসিইউতে শয্যা বাড়ানো দরকার। ঢাকার বাইরে মেডিকেল কলেজগু'লোর সক্ষ'মতা বাড়িয়ে সেখানে এলাকার রোগীর চিকিৎসা করা দরকার। ৩. কোভিড-১৯ এর জন্য টেস্ট করতে আসা মানুষ যাতে সহ’জে সেবা পায় তার ব্যবস্থা করা দরকার।

আগামী দিনগু'লোতে করো’’না টেস্ট করার চাহিদা বাড়তে পারে, সেটি মা’থায় রেখে পর্যা'প্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন। ৪. রোগ প্রতিরোধের জন্য অবিলম্বে সামাজিক অনুষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র, বইমেলা ও অন্যান্য মেলা বন্ধ করা দরকার।

পরিবহণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা। এ স’ম্পর্কে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব নির্দেশনা যাতে পালন করা হয় তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

ধ’র্মীয় আচার অনুষ্ঠানগু'লোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে ইস’লামিক ফাউন্ডেশন থেকে দিকনির্দেশনা নেওয়া যেতে পারে। ৫. টিকাদান-পরবর্তী সার্ভিলেন্সের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এটি একটি ভালো উদ্যোগ। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য জেনেটিক সিকুয়েন্সিং করা দরকার। এজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও আর্থিক সংস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

Facebook Comments
Back to top button