ঘরে অসুস্থ বাবা, দু’মুঠো খাবারের আশায় ভা’ঙা সাইকেলে মিষ্টি বিক্রি করছে ছোট্ট সুমন

করো’’না অতিমা’রীর জেরে কর্মহীন ‘'হতে হয়েছে বহু মানুষকে। মানুষের রুটিরুজি বন্ধ হয়েছে যেমন, ঠিক তেমনই বন্ধ হয়েছে বহু মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্রের পড়াশোনা। স্কুলে গিয়ে ক্লাস করাও বন্ধ হয়ে গেছে অতিমা’রীর জন্য। ক্লাস চলছে শুধুমাত্র অনলাইনে, কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে থাকা দরিদ্র মানুষদের পক্ষে অনলাইন স্মা’র্টফোন বা ল্যাপটপে ক্লাস করা রীতিমতো ক’'ষ্টসাধ্য।

ঠিক তেমনই এক মেধাবী ছাত্র বর্ধমানের মেমা’রির সুমন ঘোষ। এই ছেলেটি মেমা’রির খাঁড়াগ্রামের বাসি’ন্দা। ক্লাস সেভেনে পড়ে সে। কিন্তু এই বয়সেই তাকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। বাবা শরৎ ঘোষ পেশায় অ্যাম্বুলেন্স চালক। সংসারে বাবা-মা ছাড়াও আরেকটি ছোট্ট বোন রয়েছে। বাবা দীর্ঘদিন ধরে অ’সুস্থ। শিক্ষকেরা এগিয়ে এসেছেন তার ভর্তির জন্য এবং এভাবেই সে পড়াশোনা করতে পারছে।

কিন্তু লকডাউনের জেরে সংসারের আয় রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গেছে। তার সাথে সাথে থেমে গেছে তার পড়াশোনাও। তাই এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই বড় হয়ে যায় ছোট্ট সুমন। মা নয়নমণি দেবীকে সে বলে বাড়িতে মি’'ষ্টি বানাতে এবং সাইকেলের পেছনে করে ভোরবেলায় উঠে সেই মি’'ষ্টি ‘'বিক্রি করতে যায়।

যে বয়সটা খেলাধুলায় কা’টানোর, সেই বয়সে সে আয় করতে নেমেছে। সারাদিন গ্রামে ঘুরে ঘুরে ৫০০-৬০০ টাকার মত মি’'ষ্টি ‘'বিক্রি করে। তার সংসারের খরচ এবং নিজের পড়াশোনার খরচ তাই দিয়েই সে চালায়। নয়নমণি দেবী আ’'ক্ষেপ করে বলেন, “সংসারের হাল ধরতে ওকে এই কাজ করতে হচ্ছে। চেয়েছিলাম পড়াশোনা করে মানুষের মত মানুষ হোক। কিন্তু স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাব’ে।”

Facebook Comments
Back to top button