মুক্তিযু’দ্ধের সময় জিয়াউর রহমান পা’কিস্তানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন : তথ্যমন্ত্রী

ক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরের বাসায় সমসাময়িক বি'ষয় নিয়ে ব্রিফিং করেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল- ‘হাই’কোর্ট তথ্য মন্ত্রণালয়কে আল জাজিরার প্রতিবেদন ইউটিউব এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বাদ দেয়ার জন্য বলেছিলেন, কিন্তু আপনারা এটি বাদ দিচ্ছেন না কেন?’ এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আম’রা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বা’স করি। তবে হাই’কোর্ট যদি আল জাজিরা বন্ধে নির্দেশ দেয়, তবে আ’দালতের নির্দেশনা আমা'দের মানতে হবে। সেক্ষেত্রে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা হবে।’।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আম’রা চাইলে আল জাজিরার সম্প্রচার আমা'দের দেশে বন্ধ করতে পারতাম। অনেক দেশে বন্ধ করা হয়েছে এবং বন্ধ রয়েছে। এমনকি ভা’রতেও কিছুদিনের জন্য বন্ধ ছিল। এখনও ৬-৭টি দেশে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যেহেতু গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বা’স করে, এজন্য আম’রা সেই উদ্যোগ (বন্ধের সি'দ্ধান্ত) নেইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার যেমন দরকার, দায়িত্বশীলতারও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা মানে এই নয় যে ভুল, মিথ্যা, পক্ষপাতদু'ষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অ’পরের স্বাধীনতা হ’রণ করে এমন সংবাদ পরিবেশন করা হবে। এটা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আল জাজিরার রিপোর্ট একটি মিথ্যা বানোয়াট। কিছু কাট-পেস্ট করে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি ব্যক্তিগত আ'ক্রোশের বশঃবর্তী হয়ে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে।’

বিএনপি নেতাদের টিকাগ্রহণ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতারা করো’’না টিকা নিয়ে অনেক অ’পপ্রচার চালিয়েছেন। তারা প্রথমে বলেছে- সরকার টিকা সময়মতো আনতে পারবে না। যখন সময়মতো টিকা চলে এলো, তখন বললেন- এটি নিলে কোনো কাজ হবে না। এই টিকা দিয়ে বিএনপি নেতাদের মে’রে ফেলতে চাচ্ছেন। এ ধরণের কথাও বলেছেন তারা।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নানা ধরণের প্রশ্ন তুলে, দায়িত্বহীন অনেক কথা বলে শেষ পর্যন্ত বিএনপির অনেক নেতা করো’’না টিকা নিয়েছেন এবং নেয়ার পক্ষে কথাও বলেছেন। সেজন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। কথায় আছে না ‘গাধা জল ঘোলা করে খায়’। টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির ভূমিকাও সে রকমই।’ তিনি বলেন, ‘আম’রা চাই- তারা (বিএনপি নেতারা) টিকা নিয়ে সুস্থ ও সবল থাকুক। তারা বিরোধী দল, বিরোধীতার ভূমিকায় তারা আছেন। আজীবন আমা'দের বিরোধীতা করুক।’

জিয়াউর রহমানের খেতাব প্র'ত্যাহার প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মুক্তিযু’'দ্ধের সময় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আসলে কি ছিল সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। মুক্তিযো'দ্ধার ছদ্মাবরণে তিনি প্রকৃতপক্ষে পা’কি'স্তানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার খেতাব বাতিলের চূড়ান্ত সি'দ্ধান্ত তো হয়নি এখনও। এটা নিয়ে জামুকাতে আলোচনা হয়েছে মাত্র।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি তো বিরোধী দল, তারা বি’ক্ষো'ভ করতেই পারে। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনসহ অন্যান্য যে সমস্ত ইস্যুতে তারা বি’ক্ষো'ভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন, তা হাস্যকর। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশে যে ধরণের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, সেই নিরিখে চট্টগ্রাম সিটিতে একটা ভাল নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও কার্যত মাঠে ছিল না। ভোটের দিন তাদের কাউকে দেখা যায়নি।’

তথ্যমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মতো একটা গু'রুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব কি চট্টগ্রাম এসেছিলেন? তিনি কি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন? একটা মিটিং করেছেন? অথচ তাদেরতো প্রচারণা চালাতে কোনো অ’সুবিধা ছিল না।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নানা বাধ্যবাধকতার কারণে আমা'দের দলের এমপি এবং মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ছিল। মির্জা ফখরুল সাহেবসহ তাদের দলের নোতারা যারা প্রতিদিন নয়াপল্টনে কথা বলেন, তাদেরতো কোনো সমস্যা ছিল না। তারা কিন্তু আসেনি। অর্থাৎ তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু মাঠে ছিল না, এটি তাদের ব্য'র্থতা এবং দলীয় দুর্বলতা। এ কারণেই চট্টগ্রাম সিটিতে তারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।’

Facebook Comments
Back to top button