রাজমিস্ত্রী’, রডমিস্ত্রির কাজ করে পাঠাগার করলেন ১৯ বছরের এই কি’শোর!

মা’থায় বহন করেন ইটের বোঝা। বোঝা নিয়ে ক্লান্ত মা’থায় অক্লান্ত স্বপ্ন দেখেন শেখ মুহাম্ম’দ আতিফ আসাদ। বাড়ী জামালপুর জে’লার সরিষাবাড়ী উপজে’লার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাসড়া মাজালিয়া গ্রামে। বয়স বিশ ছুই ছুই। এই বয়সেই তারুণ্য শক্তি কাজে লাগিয়ে ব্যতিক্রম স্বপ্ন বুনেন হৃদয়ে। তার স্বপ্ন প্রত্যেক গ্রামে পাঠাগার হবে। লাখ লাখ পাঠাগার হবে বাংলাদেশে। এই দৃশ্য দেখেই ম’রে যেতে চান আতিফ। এই আ'ত্মতৃ'প্ত িতেই বই পড়ার আ’ন্দোলনকে সার্থক মনে করেন তিনি। তার স্বপ্নকে ধারণ করে ইত্যিমধ্যে গ্রামে পাঠাগার গড়ে তুলেছেন। পাঠাগারের নাম মিলন স্মৃ'’তি পাঠাগার।

ঘরের বারান্দায় পাট শোলা দিয়ে পাঠাগারের জন্য ছোট ঘর করেছেন। ২০১৮ সালের শুরুতে ছোট ঘরে মাত্র ২০ টা বই দিয়ে সূচনা করেন পাঠাগারটির। তবে এখন এখানে রয়েছে প্রায় হাজার খানেক বই।

দিন মজুরের ছে’লে আতিফের লেখাপড়ার ইচ্ছা প্রবল। কিন্তু পড়ালেখার খরচ চালানোর মত সার্মথ্য ছিল না তার পরিবারের। লেখাপড়ার জন্য তাই মাঝে মাঝে লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রির কাজ, খাট বার্নিশ, ধান কা’টার কাজ করতেন তিনি।তবে দৈন্যতা তাকে বই পড়ায় বাধা দিলেও তার পাঠাগার তৈরির চিন্তাকে উদ্ভাবন করেছে। তিনি বলেন, আমা’র ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিজের পড়তে না পারার বি'ষয়টি আমাকে দারুন পোড়ায়। সাথে মা’থায় আসে আমা’র মত গ্রামের অন্য তরুনদের কথা। তাদেরও তো জ্ঞান অর্জন করা দরকার। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার সেই ভাবনা থেকেই আমা’র পাঠাগার করার চিন্তা। তা বড় ভাইকে সাথে নিয়ে শুরু করে দিলাম পাঠাগার করার কাজ।

পাঠাগারের নাম মিলন স্মৃ'’তি দেয়ার কারণ জানতে চাইলে আতিফ বলেন, আমা’র পাঠাগার করার ইচ্ছাকে আমা’র বড় ভাই খুব বড় করে দেখেছেন। আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন প্রবল। ভাইয়ের সাথে পরাম’র্শ করে বাড়ীতেই শুরু করলাম পাঠাগার। যেহেতু টাকা নেই, ঘর ভাড়া করে শুরু করা আমা’র পক্ষ সম্ভব না তাই বাড়ীতেই শুরু করলাম। এরপর জমিজমা’র বিরোধে প্রভাবশালীদের হাতে বড় ভাইকে খু’ন করা হলে তার নামেই আবার নতুন উদ্যমে শুরু করলাম। ভাই যেহেতু শুরু থেকেই সাথে ছিলো, সবসময় অনুপ্রেরণা দিতো, উৎসাহ যোগাতো, তাই তার নামেই মিলন স্মৃ'’তি পাঠাগার শুরু করলাম।

আতিফ পাঠকের সুবিধার কথা চিন্তা করে সাইকেলে করে সবাইকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই পৌঁছে দেন। আবার স'প্ত াহ শেষে নিয়েও আসেন। ১০-১৫ কিলো দূর থেকেও ফোন করলে সাইকেল দিয়ে বাড়ীতে গিয়ে বই দিয়ে আসেন। বিনিময়ে নেন না কোনো পারিশ্রমিক। অনার্সে পড়ার পাশাপাশি এখন একাই এই কাজ করে যাচ্ছেন আতিফ।

প্রত্যেক গ্রামে একটি করে পাঠাগার হবে, গ্রামের সকল মানুষ যখন স্বাচ্ছন্দ্যে বই পড়বে, তখনি আতিফের বই পড়ার স্বপ্নটা বেঁচে থাকবে। তাই তিনি সকলকে বই পড়ার অনুরোধ করে বলেন, আপনারা সবাই বই পড়ুন, প্রিয়জনকে বই উপহার দিন।

Facebook Comments
Back to top button