হার না মানা সাইমুমকে বা’চাঁতে এগিয়ে আসুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রিয়মুখ সাইমুম ইফতেখার। ২০১৫ সাল থেকে তিনি ক্যান্সারে আ’ক্রা'ন্ত। ২০১৬ সালে অ’পারেশন করে তার পায়ে কৃত্রিম হাঁটু বসানো হয়। ক্রা'চ হাতে গত পাঁচ বছর ধরে তিনি যু’'দ্ধ করে এসেছেন। ভেলোরের হাসপাতা’লে হাসতে হাসতে কেমোথেরাপি দিতেন। এমনই হার না মানা সাইমুম।

প্রতি বছর দুবার করে ভা’রতে গিয়ে ফলোআপ করে এসেছেন। এই ল’ড়াইয়ে পিছিয়ে যাননি পড়াশোনায়ও। কেমো দিয়ে এসে কয়েকদিনের মা’থায় পরীক্ষার টেবিলেও বসেছেন। ক্যান্সারের কারণে নিজের ব্যাচ থেকে ছিট’কে পড়লেও এমন অ’প্রতিরোধ্য মনোবলের সাইমুম অনার্স ফাইনাল ইয়ারে দেখান অভাবনীয় সাফল্য, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয়। একই সময়ে উর্দু-হিন্দি থেকে দারুণ দারুণ অনুবাদ, গল্প-কবিতা লিখে গেছেন এ শিক্ষার্থী। একজন যো'দ্ধা, একজন ফাইটার হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন সাইমুম।

ক্যান্সারকে হার মানিয়ে ক্রা'চ নিয়েই চাকরি জীবনে প্রবেশের অ’পেক্ষায় ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী। কিন্তু করো’’না মহামা’রী তাকে আবার নতুন ল’ড়াইয়ে ফেলে দিয়েছে। নয়তো, যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের, মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা-জীবনানন্দের এ লাইন সত্যি 'হতে যাবে কেন।

কী’ দুর্ভাগ্য, করো’’নার কারণে তার রেগু'লার চেকআপে ব্যাঘা'ত ঘটে। যে দুঃসহ পরিস্থিতি গত এক বছর পার হয়েছে, সেখানে আ’ট’কে পড়ে সাইমুম, সেইসঙ্গে তার স্বপ্নও। নিজেও করো’’নায় আ’ক্রা'ন্ত হন। কোন ফাঁ'কে যে শরীরের আরেক অংশ ফুসফুসে ক্যান্সারের টিউমা’র ছড়িয়ে পড়েছে নিজেও জানেন না। যখন জানতে পারলেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে ভা’রতে ট্রিটমেন্টের জন্য যেতেও তার দেরি হয়ে যায় সেখানে লকডাউনের কারণে।

সাইমুমের পরিবার থেকে জানানো হয়, সাইমুম এখন চেন্নাইয়ের এপোলো হাসপাতা’লের ক্যান্সার সেন্টারে জীবন-ম’রণ সন্ধিক্ষণে। পরপর দুইটা বড় অ’পারেশন করা লাগবে। একটা পায়ে, আরেকটা ফুসফুসে। হয়তো তাকে একটা ফুসফুস নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে আজীবন, হয়তো এক পায়ের ওপর ভর করেই তাকে হাঁটতে হবে। সেটাও আপনাদের উদাত্ত সহায়তা পেলে। কারণ, এ দুই অ’পারেশনসহ বাকি ট্রিটমেন্টের জন্য সব মিলিয়ে দরকার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মতো।

বন্ধুরা জানান, শুরুতেও অনেকের সহায়তায় তিনি ল’ড়াই করে এতদূর এসেছিলেন। ফলে এবার কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিল না এই ফান্ড কালেকশানের। কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন, এছাড়া আর উপায় নেই। ইতিমধ্যে গত কয়েক বছরে তার চিকিৎসা বাবদ ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ মুহূর্তে আবার ক্যান্সার অ’পারেশন, আবারও বড় অংকের টাকা।

আপনারা এগিয়ে না আসলে আম’রা হয়তো সাইমুমের সেই অমলিন হাসিটা বেশিদিন আর দেখব না, কা’টাপাহাড় ধরে ক্রা'চ নিয়েও হাঁটতে দেখব না সাইমুমকে, নাজিম হিকমতের কবিতা আওড়াতেও দেখব না তাকে, শাটলে দেখব না বন্ধুদের সঙ্গে গানে সুর মেলাতে, ক্রেচ হাতেই বৃ'ষ্টিতে ভিজতে দেখব না, সমাজ বিজ্ঞানের ঝুপড়িতে আড্ডা থেকেও চিরতরে হারিয়ে যাবে সাইমুম।

সবাই এগিয়ে আসুন। এমন মেধাবী, সৃজনশীল, প্রা’ণবন্ত উজ্জ্বল তারুণ্যকে আমা'দের মাঝ থেকে হারাতে না দিই। এ মুহূর্তে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সব কিছুই বন্ধ, ফলে আগের মতো ফান্ড কালেকশনের সুযোগও নেই। তাই যে যেভাবে পারেন হাত বাড়িয়ে দিন, অন্যদেরও আহ্বান করুন। যেভাবে সহায়তা পাঠাবেন-

'বিকাশ :
মিজান- (০১৮১৪৪৩৯৩০৫)
আরিফ- (০১৭৩০৩৫৫১৯৭)

ব্যাংক একাউন্ট
MD. MIZANUR RAHAMAN
A/C No. 18127637001 Standard Chartered Bank, Agrabad Branch

Facebook Comments
Back to top button