এস কে সিনহার বিরু’দ্ধে ব্যাংক ক’র্মকর্তার সা’ক্ষ্য

ফারমা'র্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আ'ত্মসাতের অ'ভিযোগে করা মাম'লায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমা'র (এসকে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরু'দ্ধে ব্যাংক কর্মক'র্তাসহ দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এরা হলেন- উত্তরা শাখার ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু জাহিদ আনছারি ও সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ রিডার মোহাম্ম'দ মাহবুব হোসেন।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আ'দালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আ'দালতে তারা সাক্ষ্য দেন। এরপর তাদের জেরা করেন আ'সামি পক্ষের আইনজীবীরা। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আ'দালত আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। এ পর্যন্ত মাম'লার ২১ সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৩ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আ'দালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম সিনহাসহ ১১ জনের বিরু'দ্ধে অ'ভিযোগ গঠন করেন।

গত ১০ ডিসেম্বর আ'দালতে এ চার্জশিট জমা দেন মাম'লার ত'দন্তকারী কর্মক'র্তা দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ। এর আগে ৪ ডিসেম্বর কমিশনের সভায় ১১ জনের বিরু'দ্ধে অ'ভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন দেয়া হয়।

মাম'লার আ'সামিদের মধ্যে ফারমা'র্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারা'গারে রয়েছে। এছাড়া ফারমা'র্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমা'র রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমা'র সিনহা, ফারমা'র্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন। এ মাম'লা থেকে মৃ'ত হিসেবে প্রমাণ মেলায় চার্জশিট থেকে এক আ'সামির নাম বাদ দেয়া হয়েছে। নতুন করে একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গত বছরের ১০ জুলাই দুদকের সমন্বিত জে'লা কার্যালয় ঢাকায় মাম'লাটি করা হয়। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন এ মাম'লার বাদী। ফারমা'র্স ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ‘প্রমাণ’ পাওয়ার তথ্য গত বছরের অক্টোবরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

অ'ভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফারমা'র্স ব্যাংকের গু'লশান শাখা থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিলেন কথিত ব্যবসায়ী শাহজাহান ও নিরঞ্জন। সেই টাকা রনজিৎ চন্দ্র সাহার হাত ঘুরে বিচারপতি এস কে সিনহার বাড়ি 'বিক্রির টাকা হিসেবে দেখিয়ে তার ব্যাংক হিসাবে ঢুকেছে বলে অ'ভিযোগ পাওয়ার পর ত'দন্তে নামে দুদক।

দুদক জানায়, সিনহার বিরু'দ্ধে গত বছরের জুলাই মাসে মাম'লা করে সংস্থাটি। মাম'লায় সাবেক ফারমা'র্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে ভুয়া তথ্য দিয়ে অন্যের নামে চার কোটি টাকার ঋণ করে পরে তা এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে স্থা'নান্তর করার অ'ভিযোগ আনা হয়।

অ'ভিযোগে বলা হয়েছে, সেই ব্যাংক হিসাব থেকে পরবর্তী সময়ে টাকা স্থা'নান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়।

দুদক বলছে, মাম'লার ত'দন্তে অ'ভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই সংশ্লি'ষ্ট ত'দন্ত কর্মক'র্তার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরু'দ্ধে অ'ভিযোগপত্র অনুমোদন দেয়া হয়। ত'দন্ত শেষে নতুন করে আ'সামি হয়েছেন ফারমা'র্স ব্যাংকের নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী)।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমা'র সিনহা। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদ'ত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

Facebook Comments
Back to top button