জনগণকে অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামার আহ্বান সু চির

মিয়ানমা'রে সামর'িক অভ্যুত্থানের বিরু'দ্ধে জনগণকে 'বিক্ষো'ভে নামা'র আহ্বান জানিয়েছেন সু চি। দেশটির ক্ষ'মতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সোমবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের জনগণের সামর'িক অভ্যুত্থান মেনে নেয়া উচিত নয় এবং এর বিরু'দ্ধে অবশ্যই 'বিক্ষো'ভ করা উচিত। খবর রয়টার্সের।

সোমবার সকালে আট'কের পর থেকেই সু চি এবং তার দলের অন্যান্য গু'রুত্বপূর্ণ নেতা কর্মীদের আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি। দেশের সেনাবাহিনী যে পদ'ক্ষেপ নিয়েছে তার ফলে দেশে আবারও স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চালু হবে বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে এনএলডি। সু চির নাম নিয়েই এসব বিবৃতি দেয়া হলেও সেখানে তার স্বাক্ষর ছিল না।

সু চির পক্ষ থেকে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই সামর'িক অভ্যুত্থান মেনে না নিতে আমি লোকজনকে আহ্বান জানাচ্ছি। আন্তরিকভাবে সবাই এই 'বিক্ষো'ভের বিরু'দ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’

এনএলডির চেয়ারম্যান উইন হেইন একটি বিবৃতি জারি করেছেন। তার হাতে লেখা ওই বিবৃতিকে নির্ভরযোগ্য এবং এটি সু চির ইচ্ছার প্রতিফলন বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। উইন হেইন বলেন, আমা'র জীবনের দিব্যি দিয়ে বলছি এটা অং সান সুচির নির্ভরযোগ্য বিবৃতি যা তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, মিয়ানমা'রে সব ধরনের আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের সি'দ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংক। সোমবার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি এবং ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ার পরেই এমন সি'দ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মিয়ানমা'র ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান রাজনৈতি পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সেবা ব্য'হত হওয়ায় দেশটির সব ব্যাংক তাদের সব ধরনের আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের সি'দ্ধান্ত নিয়েছে। সব ব্যাংকের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রাখার বি'ষয়ে মিয়ানমা'রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নেয়া হবে এবং কবে থেকে সব কার্যক্রম আবারও শুরু হবে সে বি'ষয়টি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

সোমবার সকালে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষ'মতা গ্রহণ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ক্ষ'মতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজনকে আট'কের পর পরই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

এনএলডির মুখপাত্র মিও নিয়ুন্ট জানিয়েছেন, সোমবার সকালে অ'ভিযান চালিয়ে এসব নেতাকে আট'ক করা হয়েছে। গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে জালিয়াতি বলে উল্লেখ করেই মূলত ক্ষ'মতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইংয়ের কাছে দেশের ক্ষ'মতা হস্তান্তর করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থার মধ্যেই রাজধানী নাইপিদোতে মোবাইল ফোন ও রা'ষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রে'ডিওর প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে সামর'িক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন মায়াবতির সম্প্রচার চালু রয়েছে। সোমবার সেনাবাহিনীর ক্ষ'মতা গ্রহণের বি'ষয়টি মায়াবতির মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। টেলিভিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইং দেশের ক্ষ'মতা গ্রহণ করেছেন।

Facebook Comments
Back to top button