ফের জরু’রি অব’স্থা জারি, অচল মিয়ানমার

অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষ'মতা দখলের পর মিয়ানমা'রে এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সেনাবাহিনী। দেশব্যাপী সব ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টেলিফোন, ইন্টারনেটসহ গু'রুত্বপূর্ণ পরিষেবাগু'লো বন্ধ করে দেয়ায় দেশটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পুুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ এখন সেনাবাহিনীর হাতে।

প্রায় ১০ বছর পর আবারো সেনা অভ্যুত্থানের শি'কার বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমা'র। সোমবার পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর দিনই দেশটিতে জারি হলো এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইনের (Min Aung Hlaing) হাছে ক্ষ'মতা হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।

এর আগে ভোরে অং সান সু চিকে আট'ক করার খবর জানায় সেনাবাহিনী। সূ চি ছাড়াও সেনাবাহিনীর হাতে আট'ক হয়েছেন প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ক্ষ'মতাসীন দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তবে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সুচির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগু'লো জানিয়েছে, অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ছড়াও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের আট'ক করেছে মিয়ানমা'র সেনাবাহিনী। এসব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্ধের বিরু'দ্ধে ২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপির অ'ভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিবিসি তাদের খবরে বলেছে, রাজধানী নোপিদোসহ গু'রুত্বপূর্ণ শহরে মোতায়েন করা হয়েছে সেনা সদস্য। বন্ধ রয়েছে টেলিফোন, ইন্টারনেট সেবা। হচ্ছে না টেলিভিশন ও রে'ডিওর সম্প্রচার। সারা দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

একদিন আগেই মিয়ানমা'রে অভ্যুত্থানের আশ'ঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সংবিধান মেনে চলা ও আইন অনুযায়ী কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো দেশটির সেনাবাহিনী। এর পরই নেয়া হলো এমন পদ'ক্ষেপ। অবশ্য শুক্রবার মিয়ানমা'রে সেনা অভ্যুত্থানের শ'ঙ্কা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিলো জাতিসং'ঘ এবং পশ্চিমা বিশ্ব।

মিয়ানমা'রে গত ২০২০ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনের পর বেসামর'িক সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। নির্বাচনে সু চির দল নির্বাচিত হলেও তা মানতে নারাজ সেনাবাহিনী সমর'্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। ভোট জালিয়াতির অ'ভিযোগ তোলে তারা।

এদিকে মিয়ানমা'রের ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চিসহ দলটির অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের ছেড়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরা'ষ্ট্র। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। যুক্তরা'ষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, সু চিসহ অন্যদের ছেড়ে না দিলে মিয়ানমা'রের দায়ী ক'র্তৃপক্ষের বিরু'দ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরা'ষ্ট্র। অ'স্ট্রেলিয়াও অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছে। এছাড়া জাতিসং'ঘের তরফ থেকেও সূ চিসহ অন্যদের মুক্ত করের দেয়ার জন্য বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

১৯৪৮ সালে মিয়ানমা'র বার্মা নামে স্বাধীন হয় ব্রিটেনের কাছ থেকে। ১৯৫৮ সালে প্রথম সামর'িক শাসন জারি হয় দেশটিতে। তবে সরাসরি সামর'িক শাসন শুরু হয় ১৯৬২ সালে নে উইনের নেতৃত্বে এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। ২০০৮ সালে মিয়ানমা'রে সংবিধান প্রণীত হয়। সংবিধান অনুযায়ী মিয়ানমা'রের সংসদের উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষের ২৫ শতাংশ আসন কর্মর'ত সেনাসদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

সেই সংবিধানের আলোকে ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বিলু'প্ত করা হয় সামর'িক জান্তার সরকার স্টেট পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলকে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মিয়ানমা'রে চলে রাজনৈতিক সংস্কার। গণতন্ত্রায়ন শুরু হয় দেশটিতে। ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালে সরকার গঠন করেছিলো অংসান সু চির রাজনৈতিক দল এনএলডি। ২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনেরও জয় পায় সূচির দল। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অ'ভিযোগ এনে সোমবার ভোরে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং সেনা অভ্যুত্থান ঘটানোর মাধ্যমে মিয়ানমা'রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

অং সান সু চি

মিয়ানমা'র রা'ষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা অং সানের মেয়ে সু চি। ১৯৮৮ সালের ৮৮৮৮ নামের অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অ'ভিযোগে মিয়ানমা'রের সামর'িক সরকার তাকে প্রথম গৃহব'ন্দি করে ১৯৮৯ সালে। গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করার কারণে ১৯৯১ সালে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি গৃহব'ন্দি থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। ২০১৫ সাল এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে পর পর তার দল জয়ী হওয়ায় তিনি মিয়ানমা'রের স্টেট কাউন্সিলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে সোমবার সামর'িক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে সেনাবাহিনী এবং ফের তিনি আট'ক হন।

Facebook Comments
Back to top button