লেপ-কম্বল-খাদ্যদ্রব্য নিয়ে সেই খোদেজার বাড়িতে ইউএনও

প্রশাসনের তরফ থেকে নতুন লেপ-কম্বল, খাদ্যদ্রব্য ও নগদ টাকা সহায়তা পেয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজে'লার খোদেজা বেওয়া (৮৪) নামের সেই বৃ'দ্ধা।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে সাঁথিয়ার গাঙ্গহাটি গ্রামে গিয়ে খোদেজা বেওয়াকে এ সহায়তা সামগ্রী দেন সাঁথিয়া উপজে'লা নির্বাহী কর্মক'র্তা (ইউএনও) এস এম জামাল আহমেদ। এর আগে তীব্র শীতে গরম কাপড় না থাকায় ক'ষ্টে দিনাতিপাত করতে থাকা খোদেজা বেওয়াকে নিয়ে সকালে জাগো নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

চরম শীতে গরম লেপ, কম্বলের উষ্ণ পরশ পেয়ে আ'ত্মহারা হয়ে ওঠেন অশীতিপর খোদেজা। এমন আনন্দ তার গত ৩০ বছরেও আসেনি বলে জানান খোদেজার মেয়ে ফাতেমা।

সাঁথিয়ার ইউএনও এস এম জামাল আহমেদ জানান, তিনি জাগোনিউজ২৪.কম-এ প্রকাশিত ‘একটি লেপের জন্য রাস্তায় ঘোরেন ১৯৫২ সালের ম্যাট্রিক পাস খোদেজা’ শীর্ষক সংবাদটি পড়েন। তিনি বৃ'দ্ধা খোদেজা বেওয়াকে চিনতে পারেন। কারণ তিনি এর আগে তাকে ভাতা-সংক্রা'ন্ত কাজে সাহায্য করেছেন। এবার শীতে খোদেজার বেওয়ার শারীরিক ক'ষ্টের কথা জেনে তিনি নিজেই তার বাড়িতে আসার সি'দ্ধান্ত নেন।

এদিকে ইউএনওকে নিজের বাড়িতে দেখে চমকে ওঠেন খোদেজা বেওয়া ও তার মেয়ে। তারা জানান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কেউ এভাবে মান'বিকতার হাত বাড়াবেন, তারা তা কল্পনাও করতে পারেননি। তবে খোদেজা বেওয়া অতি আপনজন মনে করেই বলে ওঠেন, ‘জামাল আসছে আমা'র বাড়িতে। আমি কত যে খুশি।’

সেখানে উপস্থিত কেউ কেউ বলেন, ‘ইউএনও স্যারকে নাম ধরে ডাকছেন যে। তখন তিনি বলেন, ‘তিনি তো আমা'র নাতির মতো। আমা'র কত উপকার করেন তিনি। তাই অধিকার নিয়েই বলেছি।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) আসমা খাতুন বলেন, ‘বয়সী খোদেজা বেওয়া বিধবা ভাতা পান। তবে পাঁচশ টাকা দিয়ে তো সব অভাব মেটে না। এর ওপর বয়সের কারণে তার নানা রোগবালাই শরীরে বাসা বেঁধেছে। তার এমন দুঃখের কথা সাংবাদিকরা তুলে ধরেছেন। সেজন্যই সবাই তা জানতে পেরেছেন। ইউএনও স্যারও তার জন্য নতুন লেপ, কম্বল, খাবার ও নগদ টাকা দিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমর'া ইউএনও মহোদয় এবং জাগো নিউজকে ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয় মসজিদের ইমাম রওশন আলম বলেন, ‘এমন একজন বয়সী মানুষের দুঃখের কথা জাগো নিউজ প্রকাশ করেছে। এতে সাংবাদিকরা যে মানুষের বিপদের বন্ধু তা প্রমাণিত হয়েছে।’

ইউএনও এস এম জামাল আহমেদ জানান, তিনি পাবনার সাঁথিয়ায় যোগদানের পর থেকেই রুটিন কাজের বাইরে গরিব, অ'সহায় ছাত্রছাত্রী, প্রতিব'ন্ধী ও ছিন'্নমূল মানুষের জন্য কিছু করার চে'ষ্টা করে যাচ্ছেন। খোদেজা বেওয়াও তাদের একজন।

তিনি বলেন, ‘জাগো নিউজ এমন একজন দুঃখী মানুষের কথা তুলে ধরেছে। তিনি (খোদেজা) চাকরি করলে আজ তার এমন করুণ অবস্থা হয়তো 'হত না। সে সময়ের সামাজিক ও পারিবারিক কারণে তার পক্ষে হয়তো সেটা সম্ভব হয়নি। তার জীবনটা সংগ্রামের ও বড় দুঃখের। সেই দুঃখী মানুষের মুখে এক চিলতে হাঁসি ফো’টাতে পেরে তিনিও আনন্দিত।’

খোদেজা বেওয়া পাবনার সাঁথিয়া উপজে'লার গাঙ্গহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাঙ্গহাটি গ্রামের মৃ'ত শাহাদত আলি খানের মেয়ে। ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিক (এখন এসএসসি) পাস করেছিলেন খোদেজা।

Facebook Comments
Back to top button