কেউ রইল না ছোট্ট মীমের

দাদার মৃ'’ত্যুর খবর পেয়ে গ্রামের বাড়ি খুলনার তেরোখাদা গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ছোট্ট মীম ও তার পরিবার।ঢাকার মিরপুরের ভাড়া বাসা থেকে মা, বাবা আর ছোট দুই বোনের সঙ্গে মীম সোমবার (৩ মে) সকাল ৬টার আগে শিমুলিয়া ঘাট থেকে স্পিডবোটে ওঠে।

স্পিডবোট চলাকালে ঘু'মিয়ে ছিল মীম। কোলের ওপর ছিল কাপড়-চোপড় ভরা ব্যাগ। দুর্ঘ’টনার পর পানিতে ব্যাগ বুকে চেপে ভাসমান অবস্থায় নিজেকে আবি'ষ্কার করে মীম। এ সময় কেউ একজন এসে তাকে পানি থেকে উ’'দ্ধার করে। হাত ও চোখের কাছে সামান্য আ’ঘা'ত থাকায় দ্রুত স্থানীয় রয়েল হাসপাতা’লে নেওয়া হয় মীমকে।
দুপুরে সেখানে কথা হয় মীমের সঙ্গে। শি’বচর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তার (ইউএনও) অফিসের কর্মচারী জাকির হোসেন ও বাংলাবাজার স্পিডবোট ঘাটের নৈশ প্রহরী দেলোয়ার ফকিরের তত্ত্বাবধানে তখন শিশুটি হাসপাতা’লের একটি কক্ষে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল।

কাঁদতে কাঁদতে মীম বলছিল, তার সঙ্গে মা, বাবা ও ছোট দুই বোন ছিল। দুর্ঘ’টনার পর কাউকে দেখতে পায়নি সে। তার কোনো স্বজনও আসেনি। তার বাবা-মা ও বোনেরা বেঁচে আছে নাকি ম’রে গেছে জানা নেই তার। তবে মা যে ম’রে গেছে শিশুমনে তা জানান দিয়েছে আগেভাগেই। বার বার ‘মায় মই’রা গেছে,’ বলে কাঁদছিল সে।

ভাত খেতে খেতে শিশু মীম বলছিল, গ্রামের বাড়ি খুলনার তেরখাদা গ্রামে। গত পাঁচ মাস আগে তাদের পরিবার মিরপুরে বাসা ভাড়া করে থাকছিল। দাদার মৃ'’ত্যুর খবর শুনে তারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল।

সংশ্লি'ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিশু মীমের বাবা মনির হোসেন, মা হে'না বেগম, ছোট দুই বোন সুমি (৫) ও রুমি (৩) স্পিডবোট দুর্ঘ’টনায় মা’রা গেছেন। তাদের ম’রদেহ উ’'দ্ধার করা হয়েছে।

মীমকে উ’'দ্ধারকারী নৌ পু’লিশের কনস্টেবল মেহেদী বলেন, শিশুটিকে নদীতে ব্যাগ ধরে ভাসতে দেখি। হাত ও চোখের কাছে আ’ঘা'তের চিহ্ন ছিল সামান্য। দ্রুত তাকে পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতা’লে পাঠানো হয়। শিশুটির পরিবারের সব সদস্যই মা’রা গেছেন।

মা-বাবা আর বোনদের মৃ'’ত্যুর খবর শুনেছে মীম। এতোবড় দুর্ঘ’টনায় বেঁচে গেলেও মৃ'’ত্যুভ’য়, সেই সঙ্গে আগামীর অজানা শ’ঙ্কা আর সব হা’রানোর ব্যথায় কাঁদছে সাত-আট বছরের ছোট্ট মীম। কা’ন্নারত অবস্থায় মীম বলে, আম’রা দাদু বাড়ি যাচ্ছিলাম। দাদা মা’রা গেছেন, তাকে দেখতে। আমা’র আর কেউ নাই।

সোমবার 'বিকেল ৪টার দিকে বাবা, মা ও দুই বোনের ম’রদেহসহ মীমকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি খুলনার তেরোখাদার উদ্দেশে অ্যাম্বুলেন্স রওনা দিয়েছে।

শি’বচর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান, শিশুটির বাবা, মা ও দুই বোনের মৃ'’ত্যু হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে শিশুটিকে তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার সকালে শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা স্পিডবোটটি কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে নোঙর করে রাখা একটি বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের ম’রদেহ উ’'দ্ধার করা হয়েছে। আ’হত অবস্থায় পাঁচজনকে উ’'দ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments
Back to top button