৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ঘোষবাগে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ৪ নং ঘোষবাগ ইউনিয়নের নবাবপুর গ্রামে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৪ নং ঘোষবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন ভূঞা মিন্টুর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের পর একদল দুর্বৃত্ত নবাবপুরে অবস্থিত চেয়ারম্যান মহসিন ভূঞা মিন্টুর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় মহসিন ভূঞা মিন্টু বাড়িতে ছিলেন না। হামলাকারীরা তাকে খুঁজে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং উচ্চস্বরে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এ সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, লুট হওয়া সম্পদের পরিমাণ এক থেকে দুই কোটি টাকার সমপরিমাণ হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির এ হিসাব সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা আরও দাবি করেন, হামলার সময় মহসিন ভূঞা মিন্টুর একমাত্র ছেলেকে পেয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনার পর পরিবারটির সদস্যরা দীর্ঘ সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই সময় সারা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছিল। অনেক এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাব ঘোষবাগ ইউনিয়নেও পড়ে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঘটনার পর গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং জানমাল রক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ক্ষমতার পরিবর্তন যাই ঘটুক না কেন, ব্যক্তিগত বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মহসিন ভূঞা মিন্টুর পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

Back to top button