তানজিদের সেঞ্চুরি, রিশাদের ৫ উইকেটের ম্যাচ

মিরপুরে আজকের প্রস্তুতি ম্যাচে দুই দলের জার্সির পার্থক্য সহজেই চোখে পড়েছে। একদিকে ছিল বেগুনি রঙের জার্সি পরা বিসিবি একাদশ, অন্যদিকে নানা রঙের জার্সিতে মাঠে নেমেছিল ‘বিসিএল ওয়ানডে অল স্টারস একাদশ’। কারণ, বিসিএলে নিজ নিজ দলের জার্সি পরেই এই ম্যাচে অংশ নেন অল স্টারস দলের ক্রিকেটাররা। ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই তাদের এই ম্যাচ খেলার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ম্যাচে ব্যাটিংয়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া বিসিবি একাদশ। আগে ব্যাট করে তারা তোলে ২৯৫ রান। ওপেনার তানজিদ হাসান ছিলেন ইনিংসের নায়ক। ১০১ বলে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলের বড় সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তানজিদের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন সাইফ হাসান। তবে ধীরগতির ইনিংস খেলে ৪৭ বলে ২২ রান করে ক্যাচ তুলে আউট হন তিনি। তিন ও চারে নামা সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্তও বড় রান করতে পারেননি, ফলে মাঝের দিকে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি।
তবে নতুন ভূমিকায় নামা লিটন দাস মিডল অর্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন। ওয়ানডেতে টপ অর্ডারে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর তাকে মিডল অর্ডারে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৮ বলে ৪৪ রান করে নিজের সামর্থ্যের আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক।
জাতীয় দলে ফেরা আফিফ হোসেনও ভালো শুরু করেছিলেন। ২৮ বলে ২৯ রান করার পর রানআউট হয়ে ফিরতে হয় তাকে। শেষ দিকে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ১৫ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহে পৌঁছে দেন।
বোলিংয়ে শুরুতে দাপট দেখাতে না পারলেও একসময় ম্যাচে ফিরেছিল বিসিবি একাদশ। ৩৪তম ওভারের মধ্যেই অল স্টারস দলের ৮ উইকেট তুলে নেয় তারা। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি।
তবে শেষ দিকে নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রিপন মণ্ডল ও আবদুল গাফফার সাকলাইন। দুজনের ৮০ রানের জুটিতে অল স্টারস দল কিছুটা লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৫৫ রান তুলে ৪০ রানে হার মানে তারা।