‘প্লিজ, আমি আর নিউজ করবো না’

‘প্লিজ, আমি আর নিউজ করবো না। প্লিজ, প্লিজ, আমি আর নিউজ করবো না ভাই। আমাকে ছেড়ে দিন ভাই, প্লিজ, আমি আর নিউজ করবো না’- চট্টগ্রামে নিখোঁজ হওয়ার চারদিনের মাথায় সীতাকুন্ড থেকে উদ্ধার হওয়ার পরে এভাবেই প্রলাপ বকছিলেন সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার।

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিরা বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময়ে তিনি একটা গেঞ্জি ও হাফ প্যান্ট পরিহিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, বাজারের পাশে একটি ব্রীজের নিচে তাকে পাওয়া গেছে। স্থানীয় এক দোকানদার সরোয়ারকে খালি গায়ে পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের সবাইকে ডেকে আনেন। পরে স্থানীয়রা সেখানে গেলে অর্ধচেতন অবস্থাতেই বিড়বিড় করে বলতে থাকেন ‘আমি আর নিউজ করবো না, প্লিজ… আমি নিউজ আর করব না ভাই…’। তাকে উদ্ধারের দাবিতে গত তিন দিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা।

উদ্ধার হওয়ার পরে পুলিশের সাথে প্রাথমিকভাবে কথা হয় গোলাম সরওয়ারের। সরওয়ারের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেলে চট্রগ্রাম থেকে চন্দনায় যাচ্ছিলেন তিনি। পথের কোন এক স্থানে তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নেয়া হয়। এরপরে তাকে গত তিনদিনে বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, তাকে বেধড়ক প্রহার করেছে অপহরণকারীরা। এসময় তাকে চামড়ার বেল্ট দিয়েও পিটিয়েছে ওই দুর্বৃত্তরা।

ধারণা করা হচ্ছে, নিজের অনলাইন নিউজ পোর্টালে গোলাম সরোয়ার ক্যাসিনো ব্যবসা এবং ভূমি দখল সংক্রান্ত কয়েকটি নিউজ করার কারণেই হয়তো তাকে অপহরণ করেছে প্রভাবশালী মহল।

সাংবাদিক নেতা সামসুল ইসলাম জানান, যারা অপহরণ করছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে তার উদ্ধারের পরে পুলিশকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্বজনরা। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন গোলাম সরওয়ার।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে নগরীর ব্যাটারি গলি বাসা থেকে বের হন আজকের সূর্যোদয়ের স্টাফ রিপোর্টার ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য গোলাম সরওয়ার। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সেদিন রাতে কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার সহকর্মী জোবায়ের সিদ্দিকী।