ভিপি নুরুলেরা দেশের শ’ত্রু: ছাত্রলীগ সভাপতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হককে ‘দেশের শ’ত্রু’ বলেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান। ‘ধ’র্ষ’ণ ও ধ’র্ষ’ণে স’হযোগিতার অ’ভিযোগে’ নুরুলদের অবিলম্বে গ্রে’প্তা’রের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধ’র্ষ’ণ, নি’পী’ড়’ন ও ভ’য়’ভী’তি প্রদর্শনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অ’প’রা’ধীদের এবং সিলেটের এমসি কলেজ, খাগড়াছড়ি ও সাভারে ধ’র্ষ’ণে’র সঙ্গে জ’ড়িত সবার গ্রে’প্তা’র ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে’ আয়োজিত এক বি’ক্ষো’ভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানান ছাত্রলীগ সভাপতি। আজ রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান গণফোরামের সভাপতি ও আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকেও ‘দেশের শ’ত্রু’ বলেন। তিনি বলেন, ‘ভিপি নুরুল ও কামাল হোসেনরা দেশের শ’ত্রু। এই দেশের শ’ত্রুদের দেশে থাকার দরকার নেই।

ধ’র্ষ’ণ করবে আর কামাল হোসেনরা বলবে যে আইনি সহায়তা দেব—এ ধরনের সহায়তা যারা দেয়, তাদের বয়কট করতে হবে। আইনের ছাত্র হিসেবে এতে আমি ল’জ্জিত। এ ধরনের নেতারা একসময় নাকি বাংলাদেশকে স্বীকার করত। কিন্তু আমরা তা বিশ্বাস করি না, কারণ তারা সব সময় পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবেই ছিল। আজকে এগুলো দৃশ্যমান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও তারা কথা বলে।’

নুরুলেরা শিবিরকে নিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদ করেছে বলে অ’ভি’যোগ করেন আল নাহিয়ান খান। তিনি বলেন, কিসের ছাত্র অধিকার পরিষদ, এখন তো দেখছি তারা ধ’র্ষ’ণ অ’ধিকার পরিষদ খুলে বসেছে।

নুরুলদের উদ্দেশ করে ছাত্রলীগের সভাপতি আরও বলেন, ‘ধ’র্ষ’ণ’ও করেছে, আবার এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বি’ক্ষো’ভও করে—কত বড় স্প’র্ধা ওদের! ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কিন্তু বসে নেই। কে কী বলল, এটা দেখার সময় আমাদের নেই। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দিন–রাত পরিশ্রম করছে বলেই আজকে মানুষ ঘুমাতে পারছে, এই স্বাধীনতাবিরোধীরা মাঠে নামতে ভ’য় পায়। বিএনপি-জামায়াতের সরকার হলে বুঝতেন, পথে পথে জঙ্গি হা’ম’লা’ হতো, বাসায় গিয়ে হ’ত্যা করত।’

বি’ক্ষো’ভ সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজের প্রতি ক’টাক্ষ করা বা খা’রাপ চোখে তাকানোর মতো একটি কর্মীও ছাত্রলীগে নেই। এমসি কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্বেই ধ’র্ষ’ণে’র প্র’তি’বাদে প্রথম আ’ন্দো’লন হয়েছে, এই ঘটনার বিচারের জন্য সিলেটে ছাত্রলীগ আ’ন্দো’লন চালিয়ে যাচ্ছে। যারা আ’ন্দো’লন করছে, তারাই ছাত্রলীগের কর্মী; যারা ধ’র্ষ’ণ করে, তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়। ছাত্রলীগ আছে বলেই স্বাধীনতাবিরোধীরা গলা উঁচু করে কথা বলতে পারে না।’

নুরুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা এতটা সস্তা হয়ে যায়নি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীকে ধ’র্ষ’ণে’র পর আ’ন্দো’লন করে আপনারা পার পেয়ে যাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, ছাত্রলীগের একজন আদর্শিক কর্মী কোথাও উপস্থিত থাকলে সেখানে ধ’র্ষ’ণে’র ঘটনা ঘটতে পারে না।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যান, তখনই ধ’র্ষ’ণে’র মে’গা সিরিয়াল দেখা যায়। আমি হ’তবাক—পরপর কীভাবে ধ’র্ষ’ণ’গুলো ঘটে? আমার তো ধারণা হয়, নুরুলেরা বাঁ’চার তাগিদে পরিকল্পনামাফিক ধ’র্ষ’ণে’র ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগকে দায়ী করতে চায়। পাগল ও বি’কারগ্রস্ত ভিপি নুরুল, আপনাকে বলতে চাই, বোনদের সহানুভূতি নিয়েই আপনি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন, এটি যদি মনে রাখতেন, তাহলে সবার আগে আপনিই এই বোনটির পাশে দাঁড়াতেন। আপনি বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াচ্ছেন, আমি নাকি আপনার বি’রু’দ্ধে ষ’ড়য’ন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। আমি বলতে চাই, এটি কোনো ষড়য’ন্ত্র নয়, এই বোনটির পক্ষে মা’ম’লা করতে পারলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতাম। আমরা ধ’র্ষ’কে’র বি’চার চাই, কোনো সংগঠনের নয়।’

আইনজীবী কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সনজিত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তাদের যেখানেই দেখবেন, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান রইল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধ’র্ষ’ণ’গুলোর বি’চার না হলে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশ অচল করে দেব।’

বি’ক্ষো’ভ সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সদ্য সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ধ’র্ষ’কে’র মৃ’ত্যু’দ’ণ্ড চাই—শুধু এটুকু বলেই আ’ত্মতৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

বরং নারীর ওপর অ’প’রাধের শর্ত তৈরি করে যে সমাজ, সেই সমাজকে ছি’ন্নভিন্ন করে দিতে হবে।’ নুরুলকে ‘ডাকসুর সাবেক নাট্যকার’ আখ্যায়িত করে সাদ্দাম বলেন, ‘গণমাধ্যমের বন্ধুদের বলব, আপনারা সিলেকটিভ নৈতিকতা না দেখিয়ে নৈর্ব্যক্তিক নৈতিকতা দেখান। সবার ব্যাপারেই যেন আপনাদের সমান চোখ থাকে। সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনা পত্রিকায় লিড হবে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী ধ’র্ষ’ণে’র ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হবে, তা হতে পারে না। বিশেষ করে ডাকসুর সাবেক নাট্যকারের বক্তব্য-কর্মসূচিগুলোর ডেবিট-ক্রেডিট মিলছে না, ব্যালেন্সশিট সমান থাকছে না—গণমাধ্যমের বন্ধুরা বিষয়টি উপস্থাপন করুন।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরিনা ইতি, ডাকসুর সদ্য সাবেক সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ফরিদা পারভীন প্রমুখ বক্তব্য দেন। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েক শ নেতা-কর্মী এই বি’ক্ষো’ভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

গত সপ্তাহে ভিপি নুরুল হক ও তাঁর পাঁচ সহযোগীর বি’রু’দ্ধে ধ’র্ষ’ণ ও ধ’র্ষ’ণে সহযোগিতার অ’ভি’যোগে দুটি এবং সাইবার বুলিংয়ের অ’ভি’যোগে নুরুলের কয়েকজন সমর্থকের বি’রু’দ্ধে আরও একটি মা’ম’লা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

prothomalo