কৃষ্ণের জন্মভূমি দাবি করে মসজিদ সরানোর জন্য মামলা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা

ভারতের অযোধ্যায় হিন্দু সন্ত্রাসীদের হাতে বাবরী মসজিদ শহীদ ও রাম জন্মভূমির দাবির মামলায় সফল হওয়ার পরে এবার মথুরায় ঐতিহাসিক একটি মসজিদের জায়গাকে কৃষ্ণের জন্মভূমি দাবি করে ওই মসজিদটি সরিয়ে ফেলার জন্য আদালতে মামলা করেছে উগ্র হিন্দত্ববাদীরা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ওই মামলা করা হয়েছে বলে পার্সটুডের খবরে বলা হয়েছে।

হিন্দু সন্ত্রাসীদের হাতে শহীদ হওয়া বাবরী মসজিদ নিয়ে আইনি লড়াই করা ভারতের উত্তরপ্রদেশের সুন্নী ওয়াকফ বোর্ড ও শাহী ঈদগাহ মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে ওই মামলা করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিষ্ণু জৈন, আইনজীবী হরিশঙ্কর এবং রঞ্জনা অগ্নিহোত্রীসহ আরো ৬ জন।

ওই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দাবিতে বলা হয়েছে, মথুরার কাটরা কেশব দেবের জমি থেকে শাহী ঈদগাহ ট্রাস্ট অবৈধভাবে জায়গা দখল করেছে। সেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছে। ওই জায়গাটি কৃষ্ণের প্রকৃত জন্মভূমি।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে কিছুদিন আগে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় শহীদ বাবরী মসজিদের জমিতে হিন্দুদের রাম মন্দির নির্মানের জন্য রায় ঘোষণার পরে এবার মথুরায় কৃষ্ণের জন্মভূমি নিয়ে দাবি নিয়ে মসজিদ সরানোর আন্দোলন শুরু করেছে। যদিও বাবরী মসজিদের জমিতে রাম মন্দির ছিল বলে আদালত কোন প্রমান দিতে পারেনি।

নব্বইয়ের দশকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র বহুচর্চিত স্লোগান ছিল, ‘অযোধ্যা তো স্রেফ ঝাঁকি হ্যায়, মথুরা-কাশী বাকি হ্যায়’।

দীর্ঘ আইনি জটিলতা শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যায় শহীদ বাবরী মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের পথ সুগম হওয়ার পরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে বলেছিলো, এ বার মথুরায় কৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির থেকে শাহী ঈদগাহ ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দির চত্বর থেকে জ্ঞানবাপী মসজিদ হটানোর পালা।

ভারতে ১৯৯১ সালে পিভি নরসীমা রাওয়ের সরকার উপাসনাস্থল সংক্রান্ত একটি আইন পাশ করেছিল। ওই আইনের চার নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, স্বাধীনতার দিন থেকে দেশে যেসব ধর্মীয় কাঠামো রয়েছে, তার চরিত্র কোনওভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না।

কোনও মন্দিরের জায়গায় যেমন মসজিদ বানানো যাবে না, তেমনই মসজিদ সরিয়ে মন্দিরও বানানো যাবে না। যদিও উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা যে থেমে নেই তা মসজিদের জমিকে কৃষ্ণ জন্মভূমি দাবি করে আদালতে মামলা করাতেই স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: পার্সটুডে